ময়মনসিংহে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মেহেরবাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনজনের মধ্যে দুজন হেলপার ও চালক রয়েছেন বলে জানা গেছে। ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন আরটিভি অনলাইনকে জানান, ভোরে ঢাকাগামী একটি ট্রাককে পেছন থেকে মালবাহী অপর একটি পিকআপ ভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই  পিকআপ ভ্যানের চালক-হেলপারসহ তিনজন নিহত  হন।

স্বজন ও চিকিৎসকদের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন এরশাদ

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। স্বজন এবং চিকিৎসকদের ডাকে তিনি সাড়া দিচ্ছেন। আধো ঘুম-আধো জাগরণে সাড়া দিচ্ছেন এবং চোখ মেলছেন।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) সাংবাদিকদের সাথে এক অনির্ধারিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আজও (মঙ্গলবার) গতকালের মতোই পল্লীবন্ধুর শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সিএমএইচ-এর চিকিৎসকরা এটাকে ইতিবাচক মনে করছেন।

জাতীয় পার্টির ব্রিফিং এবং প্রয়োজনে আইএসপিআর-এর তথ্য ছাড়া কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিভ্রান্ত না হতে গণমাধ্যম ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।

এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা মসিউর রহমান রাঙ্গা সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া পোস্ট দিতে নিষেধ করেন।

অনির্ধারিত এ ব্রিফিংয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীল শুভরায়, আলমগীর সিকদার লোটন, উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব এমএম ইয়াসির, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক ভূইয়া, আলহাজ্জ আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত হত্যার আসামীদের আইনের আওতায় আনা হবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমরা কেউ চাই না, বরগুনার রিফাত হত্যার মতো কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটুক। এই ঘটনায় যত প্রভাবশালী লোকই জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কারণ সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডকে (২৫) নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কিছু দিন ধরে খুঁজছিল। নয়ন ছিল পলাতক। পুলিশ যখন তাকে ধরার চেষ্টা করছিল তখন নয়ন অস্ত্র প্রদর্শন করেছিল। এই জন্য পুলিশ নিজের জীবন রক্ষার্থেই গুলিবিনিময় করেছে। আর তাতে নয়ন বন্ড নিহত হয়।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের জীবিত গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। কিন্তু সম্ভব হয়নি। যত প্রভাবশালী লোকই এই ঘটনায় জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

যুদ্ধাপরাধীর সন্তানরা যদি আওয়ামী লীগের আদর্শকে বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ করে তাহলে তাদেরকেও আওয়াম লীগে নেয়া হবে- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বক্তব্যের ব্যাপারে দলের সাধারণ সম্পাদকই ভালো বলতে পারবেন।

ডিআইজি মিজান কারাগারে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাময়িক বরখাস্তকৃত ডিআইজি মিজানুর রহমানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আজ মঙ্গলবার সকালে আদালত এই আদেশ দেয়। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হোসেন জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে শাহবাগ থানা থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে, সোমবার (১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশি পাহারায় গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় থানার ওসি আবুল হাসানের কক্ষে। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

রেলের ১৩ খাতে দুর্নীতি

রেলওয়ের ১৩ খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি বন্ধে ১৫টি সুপারিশও করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে রেল ভবনে দুদকের কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান রেলওয়ে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেন।
দুদকের প্রতিবেদনে রেলের প্রধান দুর্নীতির খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভূমি অধিগ্রহণ, রেলের যন্ত্রপাতি ক্রয়, যন্ত্রপাতি স্থাপন, লাইন নির্মাণে দুর্নীতি, যন্ত্রাংশের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া ও আমদানিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, রেলের স্লিপার কারখানা অকার্যকর রেখে আর্থিক ক্ষতি ও এসবে তদারকির অভাবের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রেলের জায়গায় প্রভাবশালীদের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ১৫টি সুপারিশের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায় পরামর্শক নিয়োগ প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত করা ও একচেটিয়া ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা, কারখানাতে কোচ নির্মাণের সক্ষমতা সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া সম্পদের ডাটাবেজ তৈরি করে পুরাতন ও অব্যবহারযোগ্য মালামাল বিক্রি করা ও যেকোনও আমাদানিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে বেহাত হওয়া সম্পত্তি রেলের অধীনে নিয়ে আসতে দক্ষ আইনজীবী প্যানেল করার পরামর্শ এবং সমন্বয় কমিটি গঠন করে তা তদারকি করার কথা বলা হয়।

সারাদেশে ৬ মাসে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২০৪

প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে ৫৯ জন, পুলিশের সঙ্গে ৯২ জন, ডিবির সঙ্গে ১২ জন, যৌথবাহিনীর সঙ্গে একজন, কোস্টগার্ডের সঙ্গে একজন ও বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে  ২৮ জন নিহত হন। এছাড়া পুলিশের নির্যাতনে দু’জন ও গুলিতে দু’জন, বিজিবির গুলিতে তিন জন, পুলিশি হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন একজন এবং দুজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার ও র‌্যাব হেফাজতে অসুস্থ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিভাগের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে অপহরণ বা আটক

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ৯ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে পরবর্তী সময় দু’জন ফেরত এসেছেন এবং একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এসব আটকের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কারা হেফাজতে মৃত্যু

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্য‌ন্ত ছয় মাসে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩০ জন। এর মধ্যে কয়েদি ১০ জন এবং হাজতি ২০ জন।

রাজনৈতিক সংঘাত

রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১৩৪টি। এতে নিহত হয়েছেন ৩০ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫৩০ জন।

নারী নির্যাতন

এই সময়ের মধ্যে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে।

যৌন হয়রানি ও সহিংসতা

যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১২৭ জন নারী। এর মধ্যে যৌন হয়রানির কারণে আট জন আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিন জন নারী ও দু’জন পুরুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ১২৪ জন।

ধর্ষণ ও হত্যা

ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৩০ জন নারী। এর মধ্যে ৩৭ জন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাত জন। এছাড়াও ১০৫ জন নারীর ওপর ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

পারিবারিক নির্যাতন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৯২ জন নারী। এর মধ্যে ১৩৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ২৬ জন এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৯ জন নারী।

যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন

যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৮ জন নারী। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩১ জন। যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছেন ৫১ জনকে, যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন দু’জন নারী। এছাড়াও স্বামীর গৃহ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন চার জন।

গৃহকর্মী নির্যাতন

মোট ১৫ গৃহকর্মী বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের।

এসিড নিক্ষেপ

সারাদেশে গত ছয় মাসে ১১ জন নারীর ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শিশু নির্যাতন ও হত্যা

দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু হত্যা এবং নির্যাতনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। ছয় মাসে ৮৯৫ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ১০৪ জন হত্যার শিকার হয়েছে, আত্মহত্যার শিকার হয়েছে ৪০ জন, নিখোঁজের পর একজন এবং বিভিন্ন সময়ে ১৭ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে ৪১ শিশুর।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন

হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৮টি প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দির-পূজামণ্ডপে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৯ জন। এছাড়ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ১৬টি বসতঘর ও চারটি দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ৫০ জন।

সাংবাদিক নির্যাতন

গত ছয় মাসে ৫৫ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এছাড়াও একজন সাংবাদিকের রহস্যজনক মৃত্যু এবং আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সীমান্ত সংঘাত

সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়েছে ২০ জন। এর মধ্যে ১৮ জন গুলিতে এবং শারীরিক নির্যাতন করে দু’জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন পাঁচজন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৯ জন।

গণপিটুনি

সারাদেশে গণপিটুনির ঘটনায় মারা গেছেন ৩৬ জন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চীনের দালিয়ানে মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দিয়েছেন।

তিন দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’স অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস ২০১৯ শীর্ষক এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধান, ব্যবসায়ী, সুধীসমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পীসহ প্রায় এক হাজার ৮শ’রও বেশি প্রতিনিধি যোগদান করেছেন। এটি ডব্লিউইএফ সামার দেভোস নামেও পরিচিত।

সম্মেলনে এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘লিডারশিপ ৪.০- সাকসিডিং ইন এ নিউ এরা অব গ্লোবালাইজেশন’। লিয়াওডং রাজ্যের দালিয়ান উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং উত্তর চীনের হংকং হিসেবেও পরিচিত।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং দালিয়ান আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে মঙ্গলবার সকালে এই অ্যানুয়াল মিটিং উদ্বোধন করেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস সোয়াব এবং লিআনিং প্রদেশের গভর্নর ত্যাং ইউজুন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

সোমবার (১ জুলাই) রাতে  দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনে পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে তিনি ডব্লিউইএফ’র বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দিয়েছেন। এই সম্মেলন থেকে বিশ্ব পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক অসমতা এবং প্রযুক্তিগত সংকটের বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হবে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) একটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সংগঠন এবং ১৯৭১ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর জন্ম। এটি ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুইস ফেডারেল সরকারের আইনে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি পায়।

ডব্লিউইএফের লক্ষ্যে বলা হয়েছে, এটি বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোকে ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সমাজের অন্যান্য নেতাকে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং শিল্প খাতকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হয়েছে। বাসস

ওসির এসি কক্ষে ১৫ ঘণ্টা ডিআইজি মিজান

দুদকের মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আদালতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) শীতাতপ কক্ষে ছিলেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। সোমবার (১ জুন) বিকালে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টায় আদালতে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা ওসির কক্ষেই ছিলেন পুলিশের সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই ডিআইজি।

গ্রেফতারের পর থেকে শাহবাগ থানার ওসির কক্ষের বাইরে কোথাও না গেলেও আয়েশেই ছিলেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। সেখানে তার দেখভালের জন্য ছিলেন অন্তত পাঁচ জন পুলিশ সদস্য। এছাড়া, সার্বিকভাবে বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেছেন ওসি আবুল হাসান। থানার পুলিশ সদস্যদের বাইরে আরও এক ব্যক্তি তার খোঁজখবর রেখেছেন। তবে তিনি নিজের নাম না বললেও, পরিচয় দিয়েছেন থানার স্টাফ হিসেবে।

সোমবার (১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ডিএমপি রমনা জোনের এডিসি আজিমুল হকের গাড়িতে করে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশি পাহারায় গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় থানার ওসি আবুল হাসানের কক্ষে। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। ডিআইজি মিজান ওসির কক্ষে প্রবেশের পর থেকে কক্ষটি ভেতর থেকে লক করে দেওয়া হয়। ভেতর থেকে অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ সদস্যরা প্রবেশ করেন।

ওসির কক্ষে মিজানুর রহমান ছাড়াও আরও  দুজন কর্মকর্তা ছিলেন। দুজনই এসআই পদমর্যাদার। তাদের একজন পোশাকে ও অন্যজন সাদা পোশাকে ছিলেন। এই দুজনের বাইরে ওসির কক্ষে নিয়মিত আনাগোনা করছেন আরও দুজন এসআই।

ডিআইজি মিজান আসার পর নিজ কক্ষ ছেড়ে পাশের পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে বসে দাফতরিক কাজ সারছেন ওসি আবুল হাসান। থানায় ওসির কাছে আসা সাহায্যপ্রার্থীরাও তার সঙ্গে দেখা করছেন ওই কক্ষে।

রাত ৮টার দিকে ডিআইজি মিজানের জন্য খাবার নিয়ে আসেন ওসির বডি গার্ড কামরুল। একই ব্যক্তি রাত সাড়ে আটটার দিকে বাইরে থেকে পুলিশের এই কর্মকর্তার জন্য ওষুধ নিয়ে আসেন। অতিরিক্ত কাপড় নিয়ে আসা হয় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে। রাত ১১টায় তার খোঁজখবর নিতে থানায় আসেন ডিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। শাহবাগ থানায় ওসির কক্ষে ২০ মিনিট সময় কাটান তিনি।  এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌজন্যতার খাতিরে এসেছি। এর বেশি কিছু নয়।’

রাতের খাবারে মিজানকে কী দেওয়া হয়েছে তা সরাসরি বলতে রাজি হননি থানার কোনও কর্মকর্তা। তবে, ওসি আবুল হাসান বলেন, ‘রাতের খাবার বাইরে থেকে আনা হয়েছে।’

থানা সূত্র জানায়, অতিরিক্ত কাপড় নিয়ে আসার পর তিনি ড্রেস পাল্টান। এরপর রাতে ওসির কক্ষের ভেতরে থাকা বিশ্রাম কক্ষে ঘুমান ডিআইজি মিজান।

ডিআইজি মিজানুর রহমান খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছেন বলে থানার একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সকাল ৮টার দিকে নাস্তা খান তিনি, যা বাইরে থেকে আলাদাভাবে আনা হয়। নাস্তা শেষে আদালতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন মিজানুর রহমান। এরপর বেলা ১০টার দিকে শাহবাগ থানার গাড়িতে করে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে বাইরে থেকে কেউ দেখা করতে আসেননি।

প্রসঙ্গত, এর আগে নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু, এই তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ১৯ জুন আদালত এক আদেশে মিজানুর রহমানের স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২৪ জুন তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

সারাদেশে সেলসে চাকরি দিচ্ছে প্রাণ

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপে ‘শোরুম সেলস এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা উল্লেখিত সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: প্রাণ গ্রুপ

পদের নাম: শোরুম সেলস এক্সিকিউটিভ
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক/এইচএসসি। ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ অথবা ২য় বিভাগ
অভিজ্ঞতা: ০২ বছর
বয়স: ১৮-৩২ বছর। সর্বোচ্চ ৩৫ বছর
বেতন: কোম্পানির নিয়মানুযায়ী

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষদের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং নারীদের ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী
শর্ত: প্রথম ৩ মাস শিক্ষানবিশকাল
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: যে কোন জেলা এবং কোম্পানির যে কোন সেলস টিমে কাজ করার মানসিকতা

যা যা প্রয়োজন: সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ৪ কপি রঙিন ছবি, সব পরীক্ষা পাসের মূল সনদ ও ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, অভিজ্ঞতার সনদ এবং জীবন-বৃত্তান্ত।

সাক্ষাৎকার: যে কোন একটি ঠিকানায় সকাল ১০টার মধ্যে উপস্থিত থাকতে হবে-

Pran Group

হাইকোর্টে ডিআইজি মিজান

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গ্রেফতার সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের বিতর্কিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগ থানা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য গেলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এ সময় মিজানকে তাৎক্ষণিক হাইকোর্ট পুলিশের হাতে তুলে দেন আদালত। গ্রেফতারের পর তাকে শাহবাগ থানায় নেয়া হয়।

এ সময় আদালত বলেন, মিজানুর রহমান প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে পুলিশ বিভাগের ইমেজ ধ্বংস করেছেন। যেটা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কাম্য নয়।

এরপর আদালত তাকে গ্রেফতার ও মামলার অপর আসামি ডিআইজি মিজানের ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসানকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

দুদক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পরে ২৫ জুন মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

অন্যদিকে মিজানের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যদিও নারী নির্যাতন, ঘুষ প্রদান, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে দুই বছর ধরে মিজানুরের নাম আলোচনায় এলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

২৪ জুন ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মাহমুদুল হাসানকে আসামি করা হয়।