সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ১২শ কোটি টাকা বিদ্যুত্ বিল বকেয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বিদ্যুত্ বিল পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোই। চলতি অর্থ বছরের গত জুন পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে ১ হাজার ১৯১  কোটি টাকার বিদ্যুত্ বিল বকেয়া রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিল খেলাপি গ্রাহকদের তালিকা প্রণয়নপূর্বক তা আদায়ের পদেক্ষপ গ্রহণ এবং প্রয়োজনে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া বিল আদায়ে গঠিত টাস্কফোর্স ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে থাকে। পৌরসভা, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, জুট মিলের মতো বড়  বড় গ্রাহকদের বকেয়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মাহফুজুর রহমানের অপর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মোট স্থাপিত উত্পাদন ক্ষমতা ২০ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ)।
বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় উত্পাদন ক্ষমতা বেশি থাকায় কোনো বিদ্যুত্ ঘাটতি নেই। তবে গ্রীষ্মকালে সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা, গ্যাস সরবরাহের অপ্রতুলতা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মাঝে মধ্যে বিদ্যুত্ বিভ্রাট ঘটে।
এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে সরকারি খাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ৮ হাজার ৯৮৬ মেগাওয়াট এবং বেসরকারি খাতে উত্পাদন ক্ষমতা ৬ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট। প্রতিদিন চাহিদার উপর ভিত্তি করে মেরিট অর্ডার ডেসপাচ অনুযায়ী বিদ্যুত্ কেন্দ্রসমূহ হতে উত্পাদন করা হয়। এছাড়া ভারত হতে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের ভিশন ২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে আরও নতুন নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোট ১৩ হাজার ৬৫৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ হতে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
এছাড়া ৭ হাজার ৪৬১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৩টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ হতে ২০২৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। এর বাইরে ২০ হাজার ১৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতা ১৯টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভারতের ২টি স্থান হতে ১ হাজার ৮৩৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুত্ আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা ২০২০ হতে ২০২২ সালের মধ্যে শুরু হবে।

শখের বাগান বাড়ির ছাদে

খুলনা প্রতিনিধিঃ

মুর্শিদা আক্তার রণি। পেশায় একজন ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং একজন লেখিকা। শখ থেকে কৃষির সঙ্গে ভালোবাসা। তাই কাজের ফাঁকেও সময় করে নিয়েছেন বাগান করার। আর এই শখ থেকেই বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফল আর সবজির চাষ করেছেন নিজের বাড়ির ছাদে। গাছের উপকারিতা দেখে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন আরও বেশি গাছ লাগানোর। পরে ফরমালিনের ভয়ে নিজেই ফল আর সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ছাদের প্রায় চার কাঠা জায়গা জুড়ে শুধুই সবুজের সমারোহ। শখ থেকে বর্তমানে পরিবারের পুষ্টির যোগানও হচ্ছে তার এই বাগান থেকে। মুর্শিদার বাগানে রয়েছে কলা, লেবু, পেয়ারা, আতা, পেঁপে, সফেদা, ড্রাগনসহ বেশ কিছু ফলের গাছ। প্রতিদিনের সবজির জন্য বাগানে রয়েছে লাউ, বেগুন, আলু, শিম, পটল, উচ্ছে আর ঝিঙ্গা। আরো আছে আদা, অ্যালোভেরা, পুদিনাসহ বেশ কিছু দেশি-বিদেশি প্রজাতির গাছ।

আমাদের আক্রমণ করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। তবে আমাদের আক্রমণ করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে। বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অগ্রযাত্রায় আরও কাজ করতে হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরে বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স (বিএএফ) একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের সরকার বরাবরই শাসক নয় বরং জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়। আমাদের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বিগত প্রায় এক দশকে আমরা সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি।
বিএএফ প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জ নির্মিত একটি আবক্ষমূর্তি উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। এছাড়া বিমান সেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ১০৫ জেট ট্রেনিং ইউনিটের কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএএফ একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বিমান বাহিনী প্রধান চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিএএফ বেস-এর এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার ভাইস মার্শাল ফজলুল হক এবং বিএএফ একাডেমির কমাড্যান্ট এয়ার কমোডোর যাবেদ তানভীর খান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, তিন বাহিনী প্রধানগণ, কূটনীতিকবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবে না’। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভকারী বিজয়ী জাতি। আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচব। প্রধানমন্ত্রী এই সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করি। ’
জাতির পিতার অপরিসীম প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টিকে ধারণ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে একত্রে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে সর্বাধুনিক ও অগ্রসর বাহিনীতে পরিণত করতে চাই। ভবিষ্যতে এই বাহিনীর উন্নয়নে আমাদের আরো অনেক পরিকল্পনা আছে। আগামী নির্বাচনে যদি আমরা বিজয়ী হই তাহলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো।’ সকলে মিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাদার বিমান বাহিনী গঠনের। তাঁর দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পরপরই বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয় সে সময়কার অত্যাধুনিক মিগ-২১, সুপারসনিক ফাইটার বিমানসহ পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রাডার। তিনি বলেন, আমরা বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অব্যাহত রেখেছি। আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয় চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান, সুপরিসর সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০০৯ সাল থেকে বিগত বছরগুলোতে বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও অপারেশনাল সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক স্যালুন হেলিকপ্টার, মেরিটাইম সার্চ এন্ড রেসকিউ হেলিকপ্টার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বিমান সেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দক্ষ ও চৌকষ জনশক্তির যোগান দিতে নির্মিতব্য বিমানসেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সক্ষম হবে। এ অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত ও তত্ত্বীয় জ্ঞান নির্ভর বিমান সেনা গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানের জন্য দক্ষ ও পেশাদার বৈমানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে গত বছরের ২ জুলাই স্থাপিত হয় ১০৫ এডভান্স জেট ট্রেনিং ইউনিট। এ ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ক্রয় করা হয়েছে অত্যাধুনিক ফ্রাই-বাই-ওয়্যার এবং ডিজিটাল ককপিট সম্বলিত ওয়াইএকে-১৩০ কমব্যাট প্রশিক্ষণ বিমান, যা এ পর্যন্ত তৈরিকৃত ৪র্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর অন্যতম। আজ থেকে এ ইউনিট তাদের কার্যক্রম শুরু করল।
বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমীতে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট প্রদর্শিত হয়। এ সময় বিমান বাহিনীর দক্ষ বৈমানিকগণ নানা ধরনের উড্ডয়ন কৌশল প্রদর্শন করেন।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে : ঝাও কেজি
বাসস জানায়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ ভূমিকা পালন করবে বলে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রী ঝাও কেজি গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে এ আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, চীনের মন্ত্রী সাইবার অপরাধ মোকাবিলায়ও বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। চীনের মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
ঝাও কেজি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। জবাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত নিতে সেদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। চীনের উদ্যোগ এ সংকট সমাধানে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান, পুলিশের মহা-পরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মো. জয়নুল আবেদীন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন এবং নিরাপত্তা সার্ভিস বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

৩১ অক্টোবর শুরু হচ্ছে ৯০ দিনের ক্ষণ গণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বর্তমান দশম জাতীয় সংসদের চলতি শেষ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আগামী সোমবার। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আর অধিবেশন বসবে না। একই সঙ্গে ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে’- সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংবিধানে থাকা এই বিধান অনুযায়ী সেই ৯০ দিনের ক্ষণ গণনা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ অক্টোবর বুধবার।
সংবিধান অনুযায়ী একটি সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবস থেকে এই পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা শুরু হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশন বসেছিল ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি। সেই হিসাবে বর্তমান দশম সংসদের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৮ জানুয়ারি। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করতে হলে সংসদের মেয়াদ পূরণের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাংবিধানিক এই হিসাব অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে আগামী ৩১ অক্টোবর। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩০ জুন সংসদে গৃহীত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিকল্পের কথাও বলা আছে।
আগামী সোমবার চলতি অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে, না-কি মুলতবি করা হবে এনিয়ে কারও কারও মধ্যে একাধিক মত দেখা দেয়। এ ব্যাপারে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘এক্ষেত্রে সংসদ মুলতবি রাখা যায় না। চলতি অধিবেশন সোমবার শেষ হচ্ছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আর অধিবেশন ডাকার দরকার হবে না। একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তবে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর কিংবা নির্বাচনকালীন সময়ে ৬০ দিনের মধ্যে অধিবেশন ডাকার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক এই বাধ্যবাধকতা নেই।’
এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, “এখন যে অধিবেশনটি চলছে সেটা চলতি দশম সংসদের ২৩তম অধিবেশন। আমরা এটাকে ‘শেষ অধিবেশন’ বলি না। অন্যান্য অধিবেশনের মতো এবারের অধিবেশন সমাপ্তির বিষয়েও রাষ্ট্রপতির আদেশ সংসদে পাঠ করে শোনানো হবে। পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে সংবিধান অনুযায়ী।’
গত রবিবার শুরু হওয়া ২৩তম অধিবেশনটি গতকাল শেষ হওয়ার কথা ছিল। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেও এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বৈঠকে এই সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছিল যে প্রয়োজন মনে করলে স্পিকার অধিবেশনের মেয়াদ বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। স্পিকার নিজ ক্ষমতাবলে অধিবেশনের মেয়াদ আগামী সোমবার পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।
অধিবেশনের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আসলে কতগুলো বিল রয়েছে, এই বিলগুলো পাস করানোর জন্যই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি উত্থাপিত সবগুলো বিল পাস করার জন্য। যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে যে বিলগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো সোমবারের মধ্যে পাস করা হবে।’ উল্লেখ্য, বিল পাস করানোর লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবারও সংসদ বসবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যার আরেকটি অনন্য কীর্তি

২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সাল—এই তিন বত্সর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় ও ক্রান্তিকাল। এই তিন বত্সরে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়াইয়া মারিবার এক মহোত্সব চলে দুঃখজনকভাবে। পেট্রোল বোমা হামলা ও অগ্নি সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয় এই সময়। এই হামলায় অনেক পথচারী, গাড়িচালক-হেলপার, পুলিশ ও যাত্রীসাধারণ হতাহত হন। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেই সময় প্রায় চার হাজার মানুষ অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হন। যাহার মধ্যে প্রায় পাঁচশত মানুষ আগুনে পুড়িয়া প্রাণ হারান মর্মান্তিকভাবে। সেইসময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে রোগীর তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। পোড়া মানুষের আর্ত চিত্কারে ভারী হইয়া উঠিয়াছিল সমগ্র পরিবেশ। এই সময় যিনি যন্ত্রণাকাতর এই মানুষগুলির সাহায্যার্থে তাহাদের পার্শ্বে আসিয়া দাঁড়িয়াছিলেন, তিনি হইলেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পোড়া মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট দেখিয়া তিনিও অশ্রু ধরিয়া রাখিতে পারেন নাই। তিনি সেই সময় মায়ের মমতা ও বোনের স্নেহ দিয়া তাহাদের চোখের জল মুছাইয়া দিয়াছিলেন। অগ্নিদগ্ধদের অভয় দিয়াছিলেন এই বলিয়া যে, তাহাদের কল্যাণে তিনি প্রয়োজনীয় সবকিছুই করিবেন। গড়িয়া তুলিবেন একটি বিশ্বমানের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। বঙ্গবন্ধুকন্যা ও সকল দুঃসময়ে মাথা উঁচু করিয়া চলা রাষ্ট্রনায়ক তাহার কথা রাখিয়াছেন। অতি অল্প সময়ে শুধু বিশ্বমানেরই নহে, বিশ্বের সর্ববৃহত্ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট নির্মাণ করিয়া তিনি প্রমাণ করিলেন দুঃখী ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটাইতে জনদরদি নেত্রী হিসাবে তাহার বিকল্প নাই।

গত বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন চাঁনখারপুল এলাকায় আমাদের চিকিত্সা ব্যবস্থার অন্যতম সাফল্যের প্রতীক এই ইনস্টিটিউটটি উদ্বোধন করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। মোট ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ও ৫২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ইনস্টিটিউটটি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি চিকিত্সা ব্যবস্থার এক নূতন দিগন্ত উন্মোচন করিল। স্বাভাবিক কারণে এই চিকিত্সাকেন্দ্রটির নামকরণ হইয়াছে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হিসাবে। আমরা মনে করি, এই নামকরণ সার্থক হইয়াছে। ২০১৫ সালের ভয়াবহ তাণ্ডবের পরই ২০১৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়িয়া তুলিবার কাজ শুরু হয়। এই ইনস্টিটিউটে এখন পোড়া রোগীরা যেমন উন্নততর সেবা পাইবেন, তেমনি চিকিত্সক ও নার্সরা পাইবেন তাহাদের পেশাগত মানোন্নয়নে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ। ১২তলা বিশিষ্ট এই ইনস্টিটিউটে ৫৪টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, ৬০ শয্যাবিশিষ্ট হাইডেফিসিয়েন্সি ইউনিট, ১২টি অপারেশন থিয়েটার এবং অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের ব্যবস্থা রাখা হইয়াছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হইতে জরুরিভাবে রোগী নিয়া আসিবার জন্য ভবনের ছাদে থাকিতেছে হেলিপ্যাড সুবিধা। এখানে স্কিন ডোনেশনেরও ব্যবস্থা থাকিবে বলিয়া জানা যায়।

অতএব, আগুনে পোড়া মানুষদের চিকিত্সায় সুদিন ফিরিয়া আসিতেছে। এই চিকিত্সা ব্যয়বহুল হইলেও এই ইনস্টিটিউটে তাহা পাওয়া যাইবে সুলভে যাহা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই ইনস্টিটিউট গড়িয়া তুলিবার মতো এমন এক মহত্ উদ্যোগ গ্রহণ ও তাহা বাস্তবায়নের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে। এই প্রতিষ্ঠান যেন তাহার প্রতিশ্রুত বিশ্বমানের চিকিত্সাসেবা অব্যাহত রাখিতে পারে এবং প্রতিষ্ঠান হিসাবে মর্যাদা ও গৌরবের সহিত আরও আগাইয়া যাইতে পারে, সেই কামনাই করি আমরা।

জাবালে নূরের মালিক ও চালকসহ ৬ জনের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ঘাতক বাসের মালিক ও চালকসহ ছয়জনের বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েস আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে ১ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। শুনানিতে কারাগারে থাকা ঘাতক বাস দুটির মধ্যে একটির মালিক মো. শাহাদাত হোসেন আকন্দ, চালক মাসুম বিল্লা­হ, হেলপার মো. এনায়েত হোসেন ও আরেক বাসচালক মো. জোবায়ের সুমনকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে চার আসামি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। বিচারক ওই আবেদন নাকচ করে দণ্ডবিধির ৩০৪/২৭৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ  পড়ে শোনানোর পর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন তারা। ঘাতক অপর বাসের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও হেলপার মো. আসাদ কাজী ঘটনার পর থেকে পলাতক। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল বলেন, চার্জশিটে উল্লেখিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার মতে এটি দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা ইচ্ছাকৃত হয় না। ঘাতক চালক আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বেচ্ছায় চাপা দেওয়ার কথা বললেও এটি পূর্বপরিকল্পিত নয়। তাই আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত ২৯ জুলাই দুই বাসের রেষারেষিতে চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যায় আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও দিয়া খানম মিম (১৬)। আহত হয় ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম মামলাটি করেন।

৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ৩০ লাখ টাকার দুর্নীতি প্রতিরোধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানের ফলে একই সঙ্গে দ্রুত সময়ে ভূমির মালিকেরা ৩ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজের জন্য তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণের সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে ব্যাপক ঘুষ-লেনদেন হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দুদক জানায়, কমিশনের হটলাইনে অভিযোগ পেয়ে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। দুদকের টিম দেখতে পায়, ক্ষতিপূরণের চেকের অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী দালালচক্র গড়ে উঠেছে। যারা ক্ষতিপূরণের দাবির উপর ১০ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করছে। দালালরা প্রথমে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে ঘুষের অঙ্ক বাবদ একটি একাউন্ট পে চেক গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নগদ ঘুষ দালালদের কাছে হস্তান্তর করা মাত্র অধিগ্রহণের মূল পাওনা বাবদ চেক ভূমি মালিকের নিকট তুলে দেয়া হয়।

ঘটনার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে একটি টিম গঠন করা হয়। ওই টিম গত ১১ অক্টোবর পুরন ঢাকার ইসলামপুরের যমুনা ব্যাংক শাখায় হানা দেয়। কিন্তু দালালচক্র কৌশলে পালিয়ে যায়। ওই অভিযানের ফলে দালালদের ১৭ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ভূমি মালিক নূরে আলম বিনা ঘুষে ক্ষতিপূরণের এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উঠাতে সক্ষম হন।

এছাড়া একই দালালচক্র অপর ভূমি মালিক আলমগীরের নিকট ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ উঠাতে ১০ শতাংশ হারে অর্থ দাবি করে। ওই ভূমির মূল্য ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যাতে কমিশনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ লাখ টাকা। ওই টাকা দালালদের হাতে তুলে দিতে তিনি একটি চেক তৈরি করেন। কিন্তু এক্ষেত্রেও দালালরা দুদকের তৎপরতা টের পেয়ে তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে দুদক মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে দুদকের অপর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন সহকারী পরিচালক খায়রুল হক। বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) এই টিম ভূমি মালিক মোঃ আলমগীরকে নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাত করে চেক পরিশোধ এবং দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। এরপর ভূমি মালিক আলমগীর বিনা ঘুষে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক পেতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমকে ঘিরে দালাল চক্র উচ্ছেদের উপর গুরুত্বারোপ করে দুদক টিম।

এ প্রসঙ্গে দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী জানান, ‘সরকারি অফিসে সুশাসন নিশ্চিত এবং দুর্নীতি বন্ধ করার পূর্বশর্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘনঘন পরিদর্শন এবং সার্ভেইলেন্স নিশ্চিত করা। প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন আনতে হলে প্রত্যেক অফিস প্রধানকে তার অফিসের প্রতিটি কার্যক্রম কঠোর মনিটরিং, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সিসিটিভি’র ব্যবহার চালু করা উচিত। দুদক সকল পাবলিক অফিসে কঠোর অনুশাসন নিশ্চিত করতে চায়, এ লক্ষ্যে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’

পোস্তগোলা ব্রিজে টোল বাড়ানোকে কেন্দ্র করে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টোল বাড়ানোকে কেন্দ্র করে পোস্তগোলা ব্রিজের গোড়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ চলছে। শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়েছে।

শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) সকালে টোল বাড়ানোর প্রতিবাদ করে শ্রমিকরা পোস্তগোলা ব্রিজের গোড়ায় অবস্থান নিলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এখনও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। এ ঘটনায় ২০ জনের মতো শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। শ্রমিকরা বলছেন, গত ২২ অক্টোবর এই ব্রিজের টোল বাড়ানো হয়।

রণবীর-দীপিকার বিয়ে হবে লেক কেমোর ভিলা ডেল ব্যালবিয়ানেলোতে

অনলাইন ডেস্কঃ

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন বলিউডের তারকা জুটি রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন। আগামী ১৪ ও ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে তাদের বিয়ের আয়োজন। ইতালির লেক কেমোতে জমকালো আয়োজনে মালা বদল করবেন তারা।

রণবীর দীপিকার বিয়ে হবে লেক কেমোর ভিলা ডেল ব্যালবিয়ানেলোতে। সেখানে বেশি অতিথি থাকবেন না। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও রণবীর-দীপিকার কাছের বন্ধু-বান্ধব থাকবেন। সেই তালিকায় রয়েছেন করণ জোহর, শাহরুখ খান, ফারহা খান, সঞ্জয় লীলা বানসালি, আদিত্য চোপড়া এবং অর্জুন কাপুর

দীপিকা দক্ষিণ ভারতীয় আর রণবীর সিন্ধ্রি পাঞ্জাবী। তাই উত্তর এবং দক্ষিণ ভারতীয় দু’রকম রীতি মেনেই বিয়ে করবেন তারা। ১৩ তারিখে সঙ্গীত, ১৪ তারিখ কন্নড় মতে এবং ১৫ তারিখ উত্তর ভারতীয় নিয়মে বিয়ে সম্পন্ন হবে।

বিয়েতে রণবীর-দীপিকার পোশাক ডিজাইন করছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়। আর বিয়ের পুরো ইভেন্টের দায়িত্বে থাকছেন দিল্লির এক নামজাদা ওয়েডিং প্ল্যানার, যিনি আগেও বলিউডের বহু বিয়ের আসর সাজিয়েছেন।

সূত্রের খবর, হবু দম্পতি হনিমুনে যাবেন ঠিকই, কিন্তু সেই হানিমুন ট্রিপ হবে খুবই ছোট। কারণ, কিছু দিন পরই রণবীর সিং ব্যস্ত হয়ে যাবেন তার ‘সিম্বা’ ছবির প্রচারণার কাজে।

তবে বিশাল আয়োজনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার পরিকল্পনা রয়েছে দীপবীরের। ২১ নভেম্বর একটি রিসেপশন পার্টি হবে বেঙ্গালুরুতে। যেখানে শুধুই দীপিকার পরিবারের লোকজন থাকবেন। আর একটি রিসেপশন পার্টি হবে মুম্বইতে ১ ডিসেম্বর। যেখানে প্রায় গোটা বলিউডই হাজির থাকবে বলে জানা গেছে।

আজ মিশন হোয়াইটওয়াশের

অনলাইন ডেস্কঃ

‘বাংলাওয়াশ’ জিগির ওঠেনি এবার সিরিজের আবহে। অতি ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে গেছে বলেই হয়তোবা। কিংবা জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষে অমন অর্জনে শব্দটির গৌরব যথাযথভাবে প্রকাশিত না হওয়ার কারণে। এমন দুর্বল দলের সামনে বাংলাদেশের ক্রিকেটযোদ্ধাদের প্রবল হয়ে ওঠাই যে প্রত্যাশিত! সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে, আজ তৃতীয় ম্যাচে তা পূর্ণতার পালা।তাতে বাংলাওয়াশ না হোক, জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ তো করা হবে!

বাস্তবের উসকানি ছাড়া কল্পনা পাখা মেলে না। সিরিজ শুরুর আগে সর্বজয়ের যে ভাবনা, সেটিও বাস্তবতাবিবর্জিত ছিল না একেবারে।

ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের হুংকারের সামনে জিম্বাবুয়ের কুঁকড়ে যাওয়াই তো স্বাভাবিক। যদিও সাধারণের এ ধারণার সঙ্গে মেলে না অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার চিন্তা। সেটিই তৃতীয় ওয়ানডের আগে কাল চট্টগ্রামের টিম হোটেলে মনে করিয়ে দেন তিনি, ‘আমার মনে হয়েছিল, জিম্বাবুয়েকে হারানো কঠিন হবে। কারণ তাদের দলে সব অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই ফিরে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে খুব ভালো খেলা মুর যখন সাত নম্বরে, তখন এই ব্যাটিং অর্ডার দেখে ভেবেছি, আমাদের কাজ সহজ হবে না। এখনো সিরিজে এক ম্যাচ আছে। খুব বেশি কিছু তো বলা যায় না। তবে সিরিজ জিতে যাওয়ায় বলতে পারেন একটি শান্তির জায়গা আছে। এখন একটু রিল্যাক্স লাগছে।’ তাই বলে প্রতিপক্ষকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুখোমুখি হওয়া দুর্বলতম দলগুলোর মধ্যে রাখতে নারাজ মাশরাফি। বিশেষত নিজেদের দলে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল না থাকায় জিম্বাবুয়ে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে বলেও জানান অধিনায়ক, ‘সাকিব-তামিম ছাড়া খেলায় ওদের অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে লড়াই হবে ভেবেছিলাম। হয়তো এশিয়া কাপে আমরা দারুণ খেলার কারণে এবং খুব দ্রুতই মাঠে নেমেছি বলে সে রেশটি রয়ে গিয়েছে। আর দলের ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাসও এখন অনেক বেশি। এটাই ক্রিকেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; কে খেলছে না খেলছে তার চেয়েও বেশি। আমাদের সেই আত্মবিশ্বাসের কারণেই জিম্বাবুয়ের কাজ কঠিন হয়ে গিয়েছে।’

তৃতীয় ওয়ানডের আগে চট্টগ্রামে হোটেলেই বিশ্রামে সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশ দলের বেশির ভাগ সদস্য। প্রথম দুই খেলায় একাদশের বাইরে থাকা চার ক্রিকেটারের সঙ্গে দলে যোগ দেওয়া সৌম্য সরকার যান মাঠের অনুশীলনে। বিশ্বকাপের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁদের ম্যাচ খেলার প্রয়োজনীয়তার কথা মানে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ার পর শেষ ওয়ানডেতে সে সুযোগটা নেওয়ার কথাও গত কদিনে শোনা গেছে স্বাগতিক ক্যাম্প থেকে। কিন্তু তৃতীয় ওয়ানডের আগে একটু যেন স্ট্যান্স বদল অধিনায়ক মাশরাফির, ‘আসলে সব জায়গায় দেখার প্রয়োজন নেই। একজন অলরাউন্ডার প্রয়োজন ছিল, সেখানে সাইফুদ্দিন ভালো করেছে। আর সাকিব-তামিমরা ফিরলে ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম ছয়ে পরিবর্তনের তেমন সুযোগ নেই। হয়তো দু-একজন ক্রিকেটারকে দেখা যেতে পারে।’ পরিবর্তনের চেয়ে বরং বিশ্বকাপ ভাবনায় থাকা ক্রিকেটারদের বেশি বেশি খেলিয়ে পরখ করার পক্ষে অধিনায়ক, ‘বিশ্বকাপের আগে খুব বেশি ম্যাচ নেই। তাই যাদের নিয়ে ভাবছি, তারা ফর্মে না থাকলেও ওদের খেলিয়ে খেলিয়ে আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই মানসিক সমর্থন তাদের দেওয়া যেতে পারে। কারণ আট মাসে বিকল্প কাউকে তৈরি করা যায় না।’

তবে এশিয়া কাপ থেকে দলের সঙ্গে থেকেও একাদশে সুযোগ না পাওয়া আরিফুল হকের ম্যাচ খেলাটা জরুরি বলে মানেন মাশরাফি। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেই শূন্য রানে আউট হওয়া ফজলে মাহমুদকে আরেকটি সুযোগ দেওয়া যেতে পারে মত দিয়েও সৌম্যর কথা দেন মনে করিয়ে। বোঝেন পেসার আবু হায়দারকে খেলানোর প্রয়োজনীয়তা। আবার মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহদের মতো পরীক্ষিত ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সম্ভাব্য উল্টো ফলের কথাও বলেন মাশরাফি, ‘কাউকে বিশ্রাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই ক্রিকেটার কী চায়, তা গুরুত্বপূর্ণ। মুশফিক আগের ম্যাচে ৪০ রানে অপরাজিত ছিল, ও মনে করছে খেলতে থাকলে ওর ফর্মের জন্য সুবিধা হবে। রিয়াদ প্রথম ওয়ানডেতে রান করেনি, দ্বিতীয় খেলায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়নি ও, ও খেলতে চাইবে। একাদশে তাই অনেক পরিবর্তন না এনে এক-দুই জায়গা নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে।’

চিন্তার একটি জায়গায় শুধু পরিবর্তন আসেনি কোনো—আজ জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে জিততে হবে সিরিজের সব ম্যাচ। তাতে বাংলাওয়াশ না হলো, হোয়াইটওয়াশই সই!