সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার নতুন চমক দিয়ে তৈরি আওয়ামী লীগে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার নতুন চমক দিয়ে তৈরি হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার। দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রের আলোকে এই ভোটার টানার ইশতেহারে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টিকর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত, দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাবে আওয়ামী লীগ। বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে ইশতেহার প্রণয়নের। নির্বাচনের ১০ দিন আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইশতেহার ঘোষণা করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। জানা গেছে, ২০০৮ সালের ‘দিন বদলের সনদ’ ও ২০১৪ সালের ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’-এর মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতিকে নতুন একটি চমক দিতে চায় আওয়ামী লীগ। দেড় কোটি তরুণ ও নারী ভোটারকে টার্গেট করে যুগোপযোগী ভোটারবান্ধব একটি শিরোনামের ইশতেহার জাতিকে উপহার দিতে চান আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এ জন্য আওয়ামী লীগের ইশতেহার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিগত জাতীয় সম্মেলন কমিটিতে দলের ঘোষণাপত্র প্রণয়নকারীর প্রধান ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাককে। অতিসম্প্রতি দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ইশতেহার প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়ে একটি গাইড লাইন দিয়েছেন। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন ড. রাজ্জাক। প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টা, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী বিশিষ্ট নাগরিকরা এ কমিটিতে থাকবেন। তাদের মতামত নিয়ে প্রস্তুত করা হবে নির্বাচনী ইশতেহার। ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন ইশতেহার তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ড. আবদুর রাজ্জাক। বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা অফিসে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেছেন তিনি। ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির মতামত নিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত এ নেতা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রের আলোকেই তৈরি করা হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটি গাইড লাইন দিয়েছেন। আমি দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে এক্সপার্ট (পারদর্শী) ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণ করছি। টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টিকর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নতুন চমক দিয়েই তৈরি করা হবে এবারের ইশতেহার।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয় বৈঠক করব। আরও কয়েক দফা বৈঠকের পর খসড়া শেষ হলে প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়ে ছাপাখানায় দেওয়া হবে।’ জানা গেছে, ভোটার টানতে নির্বাচনী ইশতেহার বড় ভূমিকা পালন করে। তাই সব রাজনৈতিক দলই ইশতেহারে চমক দেওয়ার চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগ এবার নতুন চমক দেখাতে চায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘দিন বদলের সনদ’ স্লোগান-সংবলিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে করা ইশতেহারটি জাতির মন জয় করে নিয়েছিল। ‘দিন বদলের সনদ’-এর আদলে তরুণদের মন জয়ে ইশতেহারে এবারও একটি আকর্ষণীয় স্লোগান অন্তর্ভুক্ত হবে। ইশতেহারে জাতিকে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাবে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে থাকবে ২০৪১ নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার। অর্জন ও ব্যর্থতার পাশাপাশি শুধরে নেওয়ার লক্ষ্যে তুলে ধরা হবে ভুলগুলোও। জানা গেছে, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য ১০ অগ্রাধিকারের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক ২১টি খাতে চলমান অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হবে ইশতেহারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ করণীয়ও স্পষ্ট করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবারের ফোকাস পয়েন্টে রাখা হবে। পিছিয়ে পড়া নারী এবং চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ঘোষণা করা হবে নতুন অঙ্গীকার। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, দেড় কোটি নতুন ভোটারের জন্য নতুন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সমাধানপথ থাকবে আগামী ইশতেহারে। ‘তারুণ্যই শক্তি’ স্লোগান ধারণ করে নতুন ভোটারদের বান্ধব হবে এবারের নির্বাচনী ইশতেহার। এ ছাড়া ইশতেহারে থাকবে কওমি মাদ্রায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, কৃষিবান্ধব শিল্প গড়ে তোলা, ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চমক। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে এবার ইশতেহার তৈরির কাজ করছে দলটি। এতে থাকবে ৮১ বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা। জাতিসংঘ সফর শেষে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ইশতেহার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের জন্য তো ডেলটা প্ল্যান দিয়ে দিলাম। ৮১ বছরের প্ল্যান দিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী শতাব্দীতে, মানে ২১০০ সালে কী রকম বাংলাদেশ হবে সেই পরিকল্পনাও দিয়ে দিয়েছি।’ আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের চমক ছিল ভিশন-২০২১।

২০১৪ সালের ইশতেহারে দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইশতেহারের এ ঘোষণার আলোকে ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে দেশ। আগামীতে দেশের চেহারা বদলে দিতে খাদ্যনিরাপত্তা, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আরও ব্যাপক উন্নয়নের বিশদ প্রস্তাবনা তারা নাগরিকদের কাছে তুলে ধরবেন। এ ছাড়া ইশতেহারে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে থাকবে। দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উেক্ষপণসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় থাকবে এবারের ইশতেহারে। দেশের প্রবৃদ্ধি যেন দুই অঙ্কে পৌঁছায় সে জন্য ইশতেহারে থাকবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ঘোষণা। দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার অন্যতম অঙ্গীকার থাকবে। দেশের প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার যেন রক্ষা হয় সে বিষয়টিও ইশতেহারে জোরালোভাবে থাকছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ইশতেহারে সরকার এবং রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য অর্জন, যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, কৃষি ও শিক্ষায় উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে অগ্রগতি, কর্মসংস্থান, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, ১০০টি অর্থনৈতিক জোন, নারী উন্নয়ন ও নারীনীতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকবে। দুর্নীতি রোধে গৃহীত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হবে। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিষয়গুলোর অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে এবারের ইশতেহারে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন আনা হবে। গত দুবারের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যে বিষয়গুলো সামনে এনেছিল তাতে সাধারণ ভোটাররা আকৃষ্ট হয়েছিল। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ সরকার তা বাস্তবায়নও করে চলেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দেশের সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলো থেকে মানুষের চাহিদা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সেসবের আলোকেই তৈরি হবে এবারের ইশতেহার। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা আছে। সে সুযোগ-সুবিধা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। বিভাগগুলোর বিভিন্ন জেলায় যারা ব্যবসা ও শিল্পের নেতৃত্ব দেন তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। এ ছাড়া মানুষের চাহিদা এবং মতামতকেও প্রাধান্য দেওয়া হবে এবারের ইশতেহারে।’

ধানের শীষ ছেড়ে নৌকার পথে জেবেল রহমান গানি

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ জিয়াউর রহমানের হাতে ‘সেনা ছাউনিতে’ জন্ম নেওয়া বিএনপিকে সাধারণ মানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ‘গণতান্ত্রিক’ চেহারা দেওয়ার পেছনে যে ক’জন মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাদের মধ্যে মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন অন্যতম। বলা হয়ে থাকে, ‘যাদু মিয়ার যাদুতেই বিএনপি হয়ে ওঠে আ. লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ এবং বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।’

সেই যাদু মিয়ার নাতি প্রগতিশীল তরুণ রাজনীতিক জেবেল রহমান গানি মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) ঘোষণা দিয়ে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে গেছেন। ২০ দলে ভাঙন ধরিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে বিএনপি জোট ছাড়ার পেছনে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানির ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। প্রয়াত দাদা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ধানের শীষ ছেড়ে নৌকায় উঠছেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে নৌকার প্রার্থী হচ্ছেন জেবেল রহমান গানি।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ডোমার-ডিমলা আসন থেকে জেবেল রহমান গানির দাদা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হন। সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন যাদু মিয়া।

কিন্তু নির্বাচনের ২৪ দিনের মাথায় ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ মারা যান মশিউর রহমান যাদু মিয়া। তার শূন্য আসনে উপনির্বাচনে তারই ছেলে শফিকুল গানি স্বপন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। সেটিই এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সর্বশেষ বিজয়। এর পরের ইতিহাস কেবলই নৌকা-লাঙ্গলের।

এরপর ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেবেল রহমান গানির বাবা শফিকুল গানি স্বপন এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জেবেল রহমান গানির ফুফু মনসুরা মহিউদ্দীন লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রাথী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জেতার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভার সদস্য হন শফিকুল গানি স্বপন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আসনে নৌকার প্রার্থী আব্দুর রউফ, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে লাঙ্গলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এন কে আলম চৌধুরী, ২০০১ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হামিদা বানু, ২০০৮ সালের নির্বাচনে লাঙ্গলের প্রার্থী জাফর ইকবাল চৌধুরী এবং ২০০১৪ সালের ‘একতরফা’ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মো. আফতাব উদ্দীন সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অর্থাৎ সর্বশেষ পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী জিতেছেন তিন বার, লাঙ্গল জিতেছে দুই বার। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক চারটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারটিতেই হেরেছে বিএনপির প্রার্থীরা।

সেই নৌকা-লাঙ্গলের ঘাঁটিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি। বিএনপি নির্বাচনে এলে তিনি হবেন মহাজোটের প্রার্থী। আর না এলে তিনি হবেন নৌকার প্রার্থী— আপাতত এমনটিই হিসাব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেবেল রহমান গানি বলেন, ‘আপাতত এটুকুই বলা যায়, আগামী নির্বাচনে ‘গাভি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব— যেটা আমাদের দলীয় প্রতীক। তবে রাজনৈতিক মেরুকরণে অন্য কোনো প্রতীকে যদি নির্বাচন করতে হয়, সেখানে আমাদের আপত্তি থাকবে না। জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট থাকব।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে জেবেল রহমান গানির। সেই সুবাদে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ সব সময় ছিল।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, দাদা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ও বাবা শফিকুল গানি স্বপনের নির্বাচনী আসন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)-এ তাকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হবে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটগত নির্বাচন হলে তিনি হবেন মহাজোট প্রার্থী।

সূত্রগুলো বলছে, সরকার প্রধানের তরফ থেকে এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই বিএনপি জোট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জেবেল রহমান গানি। পাশাপাশি বিএনপি জোটে বাংলাদেশ ন্যাপের অবমূল্যায়ন, জোটে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য না থাকা, নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও আসন ভাগাভাগির বিষয়টি পরিষ্কার না করা, জোট শরিকদের পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন— প্রভৃতি কারণে জোট ছেড়েছেন জেবেল রহমান গানি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে জোট ছাড়ার কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছি। এ নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। আর নিবন্ধিত একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের সব দলের সঙ্গেই আমাদের যোগাযোগ, ওঠা-বসা, কথা-বার্তা অব্যহত থাকে। আমরা চরমপন্থায় বিশ্বাস করি না। প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারায় আমরা বিশ্বাসী।’

দেশে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ করে রাখা সম্ভব হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেছেন,অনুসারী জঙ্গিদের ব্যবহার করে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। এ চেষ্টা তারা অব্যাহত রাখবে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ করে রাখা সম্ভব হয়েছে। সফলতার সঙ্গেই তা করে আসছে নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু এখনো তাদের নির্মূল সম্ভব হয়নি। নির্মূল করা যাবেও না। কারণ শুধু নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে এদের নির্মূল সম্ভব না। উৎপত্তি স্থলে নজর দিতে হবে। জঙ্গিদের উৎপত্তিস্থল উগ্রবাদী, ধর্মশ্রায়ী রাজনীতি। জামায়াতে ইসলামী এ উগ্রবাদ ও ধর্মশ্রায়ী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত মরিয়াভাবে চেষ্টা করবে দেশকে অস্থিতিশীল করার। কারণ তাদের রাজনীতিতে টিকে থাকার একটা প্রশ্ন আছে। যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, জামায়াতের রাজনীতি এখন যে অবস্থায় রয়েছে সেটিও আর থাকবে না। বাংলাদেশ যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দর্শনে ফিরে আসে ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিও থাকবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে মে. জে. (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে, কিন্তু রাজনীতি করতে পারছে। সারাদেশে তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক বিরাজমান। আর্থিক সক্ষমতাও তাদের আছে। এতে তারা নতুন নতুন জঙ্গি তৈরি ও প্রশিক্ষণ দেবে এটাই তো স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, বহু আগে থেকেই আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে জঙ্গিরা নতুন করে সংগঠিত হয়ে অপতৎপরতার চালাবে। সেটিই এখন আমরা দেখছি।

নেইমার বার্সেলোনায় ফিরছেন?

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে ট্রান্সফার ফি’র রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে নাম লেখান নেইমার। স্প্যানিশ মিডিয়ার খবর, বছর দেড়েক যেতে না যেতেই ন্যু ক্যাম্পে ফিরতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন ২৬ বছরের ব্রাজিলিয়ান তারকা। এমন খবরই দিচ্ছে স্পেনের মিডিয়া।
কাতালানদের সঙ্গে তার সুখের জীবনটা প্যারিসে খুঁজে পান না। আর বার্সেলোনায় পাওয়া সাফল্যও পিএসজিতে পাচ্ছেন না। তাই চলতি মৌসুম শেষেই তিনি বার্সেলোনায় ফেরার চেষ্টা করবেন বলে জানাচ্ছে স্প্যানিশ প্রভাবশালী দুই ক্রীড়া দৈনিক এএস ও মুন্ডো দেপোর্তিভো।

স্প্যানিশ পত্রিকা দুটি বলছে, ফ্রেঞ্চ লিগে প্রতিন্দ্বন্দ্বীতার অভাবও নেইমারকে হতাশ করে চলেছে। এ লিগে কী ঘটবে, তা অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারছেন সহজেই। কিন্তু স্প্যানিশ লা লিগায় তীব্র প্রতিন্দ্বন্দ্বীতা চলে, যা খুবই উপভোগ করতেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

তিনি কেন বার্সেলোনা ছেড়েছিলেন তা অনেকেরই জানা। বার্সায় তাকে খেলতে হতো লিওনেল মেসির ছায়ায়। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডই বার্সেলোনার প্রধান খেলোয়াড়, যাকে ঘিরে দলটির আক্রমণ কিংবা পরিকল্পনা সাজানো হয়। সেখানে অন্যরা কখনোই মেসির চেয়ে প্রাধান্য পান না। ব্রাজিলের অনেক সাবেক গ্রেটই নেইমারকে পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যালন ডি’অর জিততে হলে মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে হবে তাকে। পিএসজিতে গেলেই তিনি শেষ পর্যন্ত মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ব্যালন ডি’অর জিততে সমর্থ হবেন।
এ পরামর্শ মনে ধরে নেইমারের। তাই তিনি বার্সার অনুরোধ উপেক্ষা করেই দলবদলের বিশ্বরেকর্ড গড়ে প্যারিসে পাড়ি জমান। তবে তার মন পড়ে থাকে বার্সেলোনায়।
প্যারিসে তিনি ভালোই করছেন। কিন্তু সেখানে ‘বড় খেলোয়াড়’ হিসেবে তার মর্যাদা এখন ম্নান হওয়ার পথে। কেননা অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ১৯ বছরেই ফরাসি ফুটবলের সুপারস্টারে পরিণত হয়েছেন কাইলিয়ান এমবাপে। বলতে গেলে, তিনিই এখন পিএসজির মূল পারফরমার। সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে এমবাপেকে বলা হয়েছে ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ’। তিনি সত্যিকার অর্থেই ফুটবলের আগামীর সুপারস্টার এবং পিএসজির ভবিষ্যৎ।

মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে এখন আরেক প্রতিন্দ্বদ্বীর সামনে পড়ে গেছেন নেইমার। অচিরেই পিএসজিতে তার কদরও যে অনেকটা কমে যাবে, তাও বুঝতে পারছেন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা। তাই হয়তো চলে যেতে চান পিএসজি ছেড়ে।

ভারতের বিপক্ষে খেলবেন না লুইস

ভারত সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সীমিত ওভারের সিরিজ থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ওপেনার এভিন লুইস। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান। তার পরিবর্তে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে কাইরান পাওয়েল ও তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টিতে নিকোলাস পুরানকে নেওয়া হয়েছে।

এই সিরিগুলোতে লুইসের অনুপস্থিতি খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে ক্যারিবীয়দের। কেননা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে ভারত ও বাংলাদেশ সফরে ‘না’ বলে দিয়েছেন ক্রিস গেইল। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে যোগ হলেও ইনজুরির কারণে ৫০ ওভারের ম্যাচে খেলবেন না আন্দ্রে রাসেল।

আগামী ২১ অক্টোবর গোহাটিতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।

ওডিআই স্কোয়াড: জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, সুনিল অ্যামব্রিস, দেবেন্দ্র বিশু, চন্দরপল হেমরাজ, শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, কাইরান পাওয়েল, অ্যাশলে নার্স, কেমো পল, রোভম্যান পাওয়েল, কেমার রোচ, মারলন স্যামুয়েলস, ওশেন থমাস, ওবেড ম্যাককোয়।

টি-২০ স্কোয়াড: কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), ফ্যাবিয়ান এলেন, ড্যারেন ব্রাভো, শিমরন হেটমায়ার, নিকোলাস পুরান, ওবেড ম্যাককোয়, অ্যাশলে নার্স, কেমো পল, খারে পিয়েরে, কাইরন পোলার্ড, রোভম্যান পাওয়েল, দিনেশ রামদিন, আন্দ্রে রাসেল, শেরফান রাদারফোর্ড, ওশেন থমাস।

রাজধানীতে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীতে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন ও বিক্রির অপরাধে ৫১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

ডিএমপি’র বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ৪১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫৮ গ্রাম  ৩৩৮০ পুরিয়া হেরোইন, ২৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৩৩ বোতল দেশী মদ, ২ বোতল বিদেশী মদ, ১৮ ক্যান বিয়ার ও ২২টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৭টি মামলা করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৪৮৪২ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান নিয়মিতভাবে রাজধানীতে পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী গাড়ি ও চালকদের বিরুদ্ধে ৪৮৪২টি মামলা ও ৫৩,৭৯,৬৬৫ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর ট্রাফিক বিভাগ। এ ছাড়াও অভিযানে ২০টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৮৯৯টি গাড়ি রেকার করা হয়।

ট্রাফিক সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত মামলা ছাড়াও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর কারণে ৫৩১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা, হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করার দায়ে ১৪৭টি, হুটার ও বিকন লাইট ব্যবহার করার জন্য ০৭টি এবং মাইক্রোবাসে কালো গ্লাস লাগানোর জন্য ০৮টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ।

ট্রাফিক সূত্রে আরো জানা যায়, ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে ১৪৫৬টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা ও ৯১টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। সেই সাথে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অপরাধে চালকের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা দেওয়া হয়।

১৬ অক্টোবর’১৮ দিনভর ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা ও জরিমানা আদায় করা হয়।

কক্সবাজার উখিয়ায় ১৩,৯৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক-১


কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়ায় অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ জিয়াউর রহমান (২৬) নামে একজনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার বিকেলে উপজেলার থাইনখালী বাজারের রহমতের বিল রোডস্থ ফারুক মার্কেটের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
র‌্যাব জানিয়েছে, গোপন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ১৩ হাজার ৯৫০ ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলা করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জনগণ যদি শান্তি না চায়, শুধু প্রশাসন দিয়েসম্ভব নয়: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, দেশের সাধারণ জনগণ যদি শান্তি না চায়, শুধু পুলিশ বা প্রশাসন দিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়।

বুধবার রাতে শেরপুর জেলার নকলা শহরের কালী মাতা মন্দিরে পূঁজামণ্ডব পরিদর্শনকালে সমবেত ভক্তবৃন্দের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এক সাথে মিলে বাংলার ঐতিহ্য বৈশাখী উৎসব পালনের জন্যে বৈশাখী উৎসব ভাতা চালু করেছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’, কাজেই হিন্দু সম্প্রদায়ের পূঁজা উৎসব নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ মুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য সকলকেই সহযোগীতা করার আহবান করেন তিনি। বিশেষ করে পূজাঁ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি পরামর্শ দেন।

পরে মন্ত্রী নকলা পূঁজা মন্ডবের উদ্যোগে আয়োজিত উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

এসময়, শেরপুর জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, সহ-সভাপতি ও চৌধুরী ছবরুন নেছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক ও ফেরদৌস রহমান জুয়েল, শিক্ষা-মানব বিষয়ক সম্পাদক ও হাজি জালমামুদ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আলতাব আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উরফা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হক হীরা, দপ্তর সম্পাদক খলিলুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরকার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, বিএডিসি হিমাগারের উপ-পরিচালক (টিসি) রফিকুল ইসলাম, শেরপুর খামার বাড়ীর উপপরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আবুল মনসুর, নকলা ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আলমগীর আজাদ ও সাধারন সম্পাদক মজিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পরেশ চন্দ্র দাস, নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার মিয়া, জাতীয় শ্রমিকলীগ নকলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবু শ্যামল সূত্র ধর ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর ও সাধারন সম্পাদক অভিজিৎ কুমার বণিকসহ অন্যান্য সদস্য, শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী উত্তম কুমার বণিক ও সাধারন সম্পাদক শ্রী সুভাস চন্দ্র বণিকসহ অন্যান্য সদস্য, পাঠাকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফয়েজে মিল্লাত, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সোহেল, যুগ্ম আহবায়ক এফএম কামরুল আলম রঞ্জু ও রেজাউল করিম রিপন, নকলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সুজা, গনপদ্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুর রহমান আবুল, উপজেলা যুবলীগের সদস্য আব্দুল্লাহেল খসরু রুবেল, রফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর বর্ষা, এ কে এম মাহবুবুল আলম সবুজ, আকরাম হোসেন, রাশেদুল হাসান রঞ্জু, মর্তুজ আলী, সোহেল রানা, আনোয়ার হোসেন শিপন, শিহাব উদ্দিন, ফরিদ উদ্দিন ও আদিল আহমেদ পল্লবসহ উপজেলার ১৯টি পূজা মন্ডপের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিকরুল হাসান পিকুল ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আজাদ ডেভিডসহ বিপুল সংখ্যক পূজারী ভক্তবৃন্দ, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, বিভিন্ন গনমাধ্যমের সংবাদিকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ডিবি ও পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত ছিলেন।

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় একটি কলেজে বোমা হামলা, নিহত ১৮

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় একটি কলেজে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেখানে ক্রিমিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি সেতু নির্মাণ করছে, সেই কের্চ এলাকার টেকনিক্যাল কলেজে ওই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

রাশিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হতাহতদের অধিকাংশই ওই কলেজের শিক্ষার্থী।

কলেজের পরিচালক রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, কিছু সশস্ত্র লোক কলেজ ভবনে ঢুকে পড়ে ওই হামলা চালায়।