সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

হার্ডলাইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১৮
হার্ডলাইনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলে এবং বিভিন্ন নির্বাচনে বিরোধিতার অভিযোগ এনে ‘পদধারী’ নেতাদের সাইজ করার মিশন শুরু করেছেন তারা। আর এতে সংসদ এবং উপজেলা নির্বাচন পরবর্তীতে দলের স্থবির রাজনীতি এখন চাঙ্গা, উত্তাপময়। তবে সেটি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই হয়েছে। আর সেখানেই জেলার শীর্ষ নেতারা নাম উহ্য রেখে তুলে ধরছেন দলের ওইসব নেতাদের নির্বাচনকালীন কাণ্ডকীর্র্তি। জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় আশুগঞ্জ, সরাইল, আখাউড়া, কসবা, সদর, শহর ও বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলতি মাসের মধ্যে শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়। এই সময়সীমা ঘোষণা করার পর থেকেই প্রাণ ফিরে আসে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। এরই মধ্যে বিজয়নগর এবং সদর উপজেলার সম্মেলন হয়েছে।

এসব সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছেন-নৌকাবিরোধীদের পদ না দেয়ার। যদিও এখন পর্যন্ত এই দুই উপজেলার কমিটি ঘোষণা হয়নি। সদরের সম্মেলনে বিভিন্ন নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিরোধিতার অভিযোগ এনে জেলা আওয়ামী লীগের ৫ নেতাকে বহিষ্কারের প্রস্তাব করা হয়। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সদর ও বিজয়নগরে জয়ী হয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা। অভিযোগ ওঠে ওই দুই উপজেলার নেতারা তো বটেই জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নেন। তাদের কেউ প্রকাশ্যে, কেউ নীরবে দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করেন। জেলার শীর্ষ নেতারা তাদের তৎপরতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে এতোদিন নীরব বসেছিলেন। মোকতাদির চৌধুরী বিজয়নগরের সম্মেলনে বলেন-নির্বাচনে নৌকার জন্য কতজনকে অনুরোধ করেছি মনে নেই আপনাদের? আজকে এখানে (সম্মেলনের মাঠে) হাজার-হাজার লোক স্লোগান দিয়েছেন, আপনারা নির্বাচনের দিন কোথায় ছিলেন? যদি নৌকার জন্য খেটে থাকেন তাহলে কোথায় গেল ভোট? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করেন। দিনের বেলা নৌকা আর রাতের বেলা ঘোড়া? সবাই নৌকা মার্কার সমর্থক কিন্তু ভোটের বাক্সে শুধু ঘোড়া মার্কায় ভোট। ওই লোকগুলোর লজ্জা হওয়া উচিত। যারা নির্বাচনে বিরোধিতা করে ছিলেন তাদের সবাইকে আমরা চিনি। তারা একজনও কমিটিতে থাকবেন না। সদরে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতীক ‘আনারস’ জেতাতে জেলা, উপজেলা ও শহর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ছিলেন তৎপর। সে কারণে সদরের সম্মেলনেও মোকতাদির চৌধুরী একই বার্তা দেন। আর এসব কারণেই টেনশনে পড়েছেন ওই নেতারা। দুই উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা সম্মেলনে তাদের অবস্থা কি হবে সে ভাবনায় তাদের দিনরাত এক হয়ে গেছে। মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন- নৌকা বিরোধীর তালিকায় তার প্রিয়জন থাকলেও তাকে রেখে কমিটি করলে তিনি সেই কমিটি অনুমোদনে সিগন্যাচার করবেন না। এদিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কারের প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি আলোচিত হয়ে উঠেছে। সংসদ, জেলা পরিষদ, সবশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের পক্ষে কাজ না করার অভিযোগ আনা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমানুল হক সেন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র হেলাল উদ্দিন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনারা আলম, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে। ৩০শে সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলনে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে নৌকাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এরপর সম্মেলনে উপস্থিত সকল ডেলিগেট ও কাউন্সিলরগণ এ প্রস্তাবে সায় দেন বলে দল থেকে দেয়া তথ্যে জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরোধিতা করায় গঠনতন্ত্র মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির কাছে সুপারিশ করা  হবে। সদর আওয়ামী লীগের গৃহীত প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন- যারা দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন তাদের কাউকে পদ দেয়া হবে না।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন- সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছি। প্রচারপত্র বিলি করেছি। আমরা কখনো নৌকার বিরোধিতা করিনি। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমার নৌকার বিরুদ্ধে ছিলাম এটা মিথ্যা। সব নির্বাচনেই যে নৌকার জন্য কাজ করেছি এর প্রমাণ কেন্দ্রে রয়েছে। আসলে সামনে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ থেকে দূরে রাখতেই তারা এসব করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..