শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে হাত-পা বেঁধে গণধর্ষণ

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ১৭

শ্রীমঙ্গলে হাত-পা বেঁধে পিতৃহীন এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে চাবাগানের ভেতরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো- উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভূরবুড়িয়া চাবাগানের সিতারাম মৃধার ছেলে মিন্টু মৃধা (২৫), একই বাগানের নারায়ন মালের ছেলে হরিমোহন মাল (৩০) ও  সিন্দুরখাঁন বাজারের ময়না মিয়ার ছেলে টমটম চালক কবির মিয়া (২৫)। পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টায় বধ্যভূমি সংলগ্ন ভাড়াউড়া চা বাগানে ভেতরে এ ঘটনা ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরীর মা জানান, তাদের বাসা শহরের ক্যাথলিক মিশনের পিছনের রহমান মিয়ার কলোনিতে। তার মেয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়ায় এক বাসায় ঝিয়ের কাজ করতো। গত নয়দিন আগে তার বাসার লোকজনের সঙ্গে বেড়াতে শ্রীমঙ্গলে এসেছে। সে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

ঘড়ির টাইমও বলতে পারে না। খুবই শান্ত ও সহজ সরল প্রকৃতির। পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত সোহেল রানা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর একই এলাকার পূর্ব পরিচিত আঞ্জব আলীর ছেলে অটোরিকশা চালক ইয়াকুব আলী (১৬) কে নিয়ে বধ্যভূমি এলাকায় বেড়াতে যায়। সেখানে রাত নয়টা পর্যন্ত অবস্থান করে রাস্তার পাশে ঝাল মুড়ি খাওয়া অবস্থায় অপরিচিত এক টমটম চালক বাসায় পৌঁছে দিবে বলে তাদেরকে টমটমে উঠায়। এসময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা ভুরবুড়িয়া চা বাগানের দুই নাইট চৌকিদার টমটমে উঠে ভাড়াউড়া চা-বাগানের নির্জন স্থানে তাদের নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষকদের একজন মেয়েটির সঙ্গে থাকা সঙ্গী ইয়াকুব আলীর হাত পা রশি দিয়ে বেঁধে, টমটমের ভেতর আটকে রাখে। প্রথমে টমটম চালক কবির মিয়া (২৫) ও চা বাগানের নাইট চৌকিদার মিন্টু মৃধা (২৫) এ দু’জনমিলে ওই কিশোরীকে মুখ চেপে ধরে চাবাগানের ভেতরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ওই কিশোরীর সঙ্গীকে পাহারায় থাকা বাগানের অপর নাইট চৌকিদার হরিনাম মোহন মাল (৩০) তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে রাত সাড়ে দশটারদিকে ধর্ষিতা কিশোরী ও তার সঙ্গী ১৬ বছর বয়সী ব্যাটারী চালিত রিকশা চালক ইয়াকুব আলী কে টমটমে করে বধ্যভূমির কাছাকাছি রাস্তায় ধর্ষকরা নামিয়ে দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনা জানার পর  মেয়েটির মা রাতেই তার মেয়েকে নিয়ে থানায় যান। পুলিশ ধর্ষকদের ধরতে রাতেই ওই কিশোরীর সঙ্গীকে ইয়াকুব আলীকে থানায় ডেকে আনে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিনভর অভিযান চালিয়েতিন ধর্ষককে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে পুলিশ।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আব্দুছ ছালেক জানান, ওই কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ধর্ষণ সংক্রান্ত ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাতেই মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত  তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..