শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন

রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ডিসেম্বরে

স্টাফ রিপোটার:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি।

আজ শুক্রবার সকালে গাজীপুর শহরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর-বাড়ি করে দেওয়া হবে এবং এক একটি বাড়ির মূল্য হবে ১৫ লাখ টাকা।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আগামী জানুয়ারিতে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে পরিচয়পত্র দেয়া হবে। পরিচয়পত্রের পেছনে তারা কি কি সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন তা লেখা থাকবে। আগামী জানুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সকল কবর একই ডিজাইনে করে দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পাঠ্যসূচিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা যেমন লেখা থাকবে, একইসাথে একাত্তর সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোষর আলবদর আলসামস, জামায়াতে ইসলাম, রাজাকারদের কি ভূমিকা ছিল তাও পাঠ্যপুস্তকে লেখা থাকবে। বিসিএস পরীক্ষায় ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রামের উপর ৫০ নম্বর এবং মুক্তিযুদ্ধের উপর ৫০ নম্বর, মোট ১০০ নম্বর-২০২০ সাল থেকে প্রবর্তিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নিয়ে অসন্তোষ আছে। যা হওয়া উচিত, তা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন-আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে তিনি তা পূরণ করবেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। স্বাধীনতার উপর যাতে ভবিষ্যতে কেউ আঘাত আনতে না পারে এজন্যে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য তিনি আহবান জানান।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মো: রশিদুল আলম।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লা খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ, বেনজীর আহমদ এমপি, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আখতারউজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি মো: রশিদুল আলম বলেন, পঁচাত্তর সাথে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিবেধ সৃষ্টি করা হয়েছে, তাদের নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। যারা এসব করেছে ভবিষ্যতে তাদের বিচার করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কোন বিভেদ সৃষ্টি সহ্য করা হবে না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সব এক হয়ে থাকব।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সিটির বিভিন্ন রাস্তা নামকরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রত্যেক জেলা ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধকালীন তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও বর্তমানে তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..