বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সারাবিশ্বে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১০৮
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কেবল তাই নয়, দেশের ভেতরে যেসব অনুষ্ঠান হবে সেখানেও বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো, বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করা, বঙ্গবন্ধুর বিদেশ সফরের ওপরে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি, সুমদ্র বিজয়ের ওপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৭৭টি দূতাবাসে ২৬০টিরও বেশি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভিশনকে ভিত্তি ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু একজন বিশ্বমাপের নেতা এবং তার ভিশনে দেশের এই উন্নতি বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক প্রস্তাবের ২৯টি কর্মসূচির মধ্যে ৯টি গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে এর মানে এই নয়, বাকি অনুষ্ঠানগুলো বাতিল। সময় সুযোগ বুঝে সারাবছর ধরে বাকি অনুষ্ঠানগুলোও করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের কোনও নির্দেশনা ছাড়াই এরমধ্যেই অস্ট্রেলিয়াতে আমাদের মিশনে বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হয়ে গেছে এবং ডিসেম্বরে সেটি উদ্বোধন করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য আটটি উপকমিটি রয়েছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কর্মসূচি উপকমিটি, এর আহ্বায়ক হচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আর সদস্য সচিব হচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব। আন্তর্জাতিক তথ্য সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্য হচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বঙ্গবন্ধু শতবার্ষিকী উদযাপন সেল গঠন করা হয়েছে।

বিদেশি অতিথি

সারাবছর ধরে জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে ১০ জনের বেশি বিদেশি অতিথি সম্মত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেশার ন্যামগেল ওয়াংচুক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স জায়েদ আল নাহিয়ান, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ। এছাড়া ওআইসি’র সেক্রেটারি জেনারেল, আরব লিগের সাবেক কর্মকর্তা আমির মুসা, ইউনেস্কোর সাবেক নির্বাহী প্রধান ইরিনা বুকোভাসহ অনেকের আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের সাতটি প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, বিশেষ করে ১৯৭১ সালে ওই রাজ্যগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার জন্য।

সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কেনেডি পরিবারের কোনও সদস্য এবং শিক্ষাক্ষেত্রে জোসেফ স্টিগলিজ বা জেফরি স্যাকসের মতো ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুক, আমরা এটি চাই। সবাই শুধু পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করুক, এটি আমরা চাই না। বঙ্গবন্ধুর ভিশনকে উপলক্ষ করে বাংলাদেশের উন্নতি এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করার পরিকল্পনা আমাদের আছে।’

১৭ মার্চের অনুষ্ঠান

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানে সীমিত সংখ্যক বিদেশি অতিথি চাইছে বাংলাদেশ।

ভারত, ভুটান, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ থেকে অতিথিদের অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কয়েকজন অতিথি তাদের সম্মতিও দিয়েছেন বলে জানান আরেকজন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘ভুটানের রাজা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী  আমাদেরকে তাদের সম্মতি জানিয়েছেন। আমরা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জাস্টিন ট্রুডোর বাবা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে উনাকে সম্মাননা জানানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নেলসন ম্যান্ডেলা, ইয়াসির আরাফাতসহ মাত্র চার জন বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

বিভিন্ন অনুষ্ঠান

জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান, জুলিও কুরি পদকপ্রাপ্তি দিবস উদযাপন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বড় আকারে একটি অনুষ্ঠান এবং ১৯৭১ সালে যেসব ভারতীয় যোদ্ধা বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, তাদের মধ্য থেকে একটি ছোট গ্রুপকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা আছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

এছাড়া, দিল্লি, কলকাতা, মস্কো, ওয়াশিংটনসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন, লন্ডনের সংসদে একটি অনুষ্ঠান, শর্টফিল্ম তৈরিসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ’আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সংক্রান্ত সাবকমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯টি প্রস্তাব অনুমোদন করার পর মিশনগুলোর কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়। সেখান থেকে একটি সাধারণ প্যাটার্ন পাওয়া যায়। বেশিরভাগ প্রস্তাব ছিল পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ,  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ, সেমিনার, কনফারেন্স, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও তার দর্শন নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন ইত্যাদি।’

তিনি বলেন, ‘মিশনগুলোর সাধারণ পরিকল্পনা হচ্ছে—এবারের মার্চে এবং আগামী বছরের মার্চে দুটি বড় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করা।’

দূতাবাসগুলো কী কী অনুষ্ঠান করবে, সে ব্যাপারে তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দিল্লি, কলকাতা, লন্ডন, ভুটান, রাশিয়া ও আমেরিকার জনগণের পজিটিভ ভূমিকার কারণে আমরা ওইসব দেশে বিশেষ অনুষ্ঠান করতে চাই।’ ওইসব অনুষ্ঠানে সেসব দেশের লোকদের অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি জানান।

বঙ্গবন্ধু চেয়ার

বঙ্গবন্ধু চেয়ার বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এরইমধ্যে পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও বিশ্বভারতীতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার আছে। এছাড়া, কেমব্রিজ ও কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু সেন্টার স্থাপনের আলোচনা চলছে।’

ইউনেস্কো পুরস্কার

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইউনেস্কোকে অনুরোধ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পুরস্কার দেওয়ার জন্য এবং গত জুনে তা গৃহীত হয়।’

তিনি বলেন, ‘গোটা প্রক্রিয়াটি শেষ করতে দুই বছর সময় লেগেছে। আশা করছি, আগামী বছরের শেষ দিকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হবে।’

এছাড়া, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনেস্কো তাদের দফতরে একটি জায়গা দিয়েছে, সেখানে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান করা হবে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..