বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১২:২৯ অপরাহ্ন
গুলশান বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার!

পদ-পদবি বড় কথা নয়, বড় হচ্ছে দায়িত্ব-ডিসি সুদীপ

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৮৬

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ৮টি বিভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে নানা কারণেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বলা চলে গুলশান বিভাগ। এ বিভাগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নিরলস সফলতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করছেন নতুন উপ-পুলিশকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম-সেবা। তবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদান রাখার চেষ্টা করছেন সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম-সেবা। কিন্তু এর আগে ডিএমপির হেড কোয়ার্টারে ও নিরলসভাবে পুলিশের দায়িত্ব যেন কুমতি ছিল না। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরুপ মিলেছে বিপিএম পদকও।

সম্প্রতি, ক্রাইম এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে উঠে এসেছে তার সফলতার কারণ ও কর্ম পরিকল্পনার কথা। পুলিশ অফিসার হিসেবে দায়িত্বের কথা। কাজের চ্যালেঞ্জ ও পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব কি তাও বলেছেন অকপটে। তিনি বলেন, এককভাবে সব কাজ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। টিমওয়ার্কিং, অদম্য চ্যালেঞ্জিং মানসিকতা ও ধৈর্য্যের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা একজন পুলিশ অফিসারের আসল যোগ্যতা। তবে পুলিশও মানুষ। মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু পুলিশের পোশাকে দু’একজন অন্যায় কিংবা অপরাধ করলে আমরা পুলিশ বাহিনীর সব অর্জন ভুলে যাই। এভারেজে পুলিশের সমালোচনা হয়। হাজারো সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে যে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হয় তা সবাই বুঝতে চায় না।

ক্রাইম এক্সপ্রেস বিডিঃ দীর্ঘদিন ধরে আপনি ডিএমপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং গুলশান বিভাগে নতুন এসেই আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসহ সবই সামলাচ্ছেন কি করে?

সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তীঃ পদ-পদবি বড় কথা নয়, বড় হচ্ছে দায়িত্ব। পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এখানে বিশৃঙ্খল লোকের সুযোগ নেই। পুলিশে যোগ্য লোকের অভাব নেই। কিন্তু সবাই সফল হন না। কাজের টিউনিং সবাই করতে পারেন না। বলতে পারেন কিছু যোগ্য লোকের সাহচর্য আমার মিলেছে। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসহ সবই সামলানো যাচ্ছে।

ক্রাইম এক্সপ্রেস বিডিঃ পুলিশের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে যদি বলতেন?

সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তীঃ পুলিশের হাজারো সীমাবদ্ধতা আছে। এর মাঝেও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের ট্রান্সপোর্টের সমস্যা রয়েছে। কর্মঘণ্টার শেষ নেই। জরুরি প্রয়োজন পড়লেও ছুটি বাতিল হয়ে যায়। পুলিশের কাছে যে সব অভিযোগ আসে তার অধিকাংশই পুলিশের দায়িত্বের বাইরে। তাই অনেক সমস্যার সমাধান অনেক ক্ষেত্রে করা সম্ভব হয় না। মানুষ কিছু হলেই থানায় আসে। মামলা, জিডি এসব করতে। কিন্তু এর মূলে যে সব কারণ তা কিন্তু ভূমি, প্রতিষ্ঠান, দলীয় ব্যাপার। ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে সমাধানে পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।  আবার যেসব বিষয়ে পুলিশ দায়িত্বপ্রাপ্ত তা সম্পাদনের জন্য যে পরিমাণ লোকবল দরকার, তা পুলিশের নেই। তবে পুলিশ যাই করুক না কেন এর জবাবহিদিতা রয়েছে। পুলিশ চাইলেই সব কিছু করতে পারে না। আইনের বাধ্যবাধকতা মেনেই সব কিছু করতে হয়।

ক্রাইম এক্সপ্রেস বিডিঃ আপনার এই নতুন বিভাগে কোনো পুলিশ সদস্য যাতে অপরাধ না করেন সে জন্য কি বিশেষ কোনো ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছেন?

সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তীঃ গালি দিলেই পুলিশ গুলি ছুড়বে এমন শিক্ষা পুলিশকে দেয়া হয়নি। আর এটাই পুলিশের বিশেষ সৌন্দর্যও বলতে পারেন। পুলিশ প্রশিক্ষিত। আর সে কারণে পুলিশের অপরাধ কেউ মানতে পারে না। তবুও পুলিশ সদস্যরা যে অপরাধ করে না তা নয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে তাদের অনেককে প্রত্যাহার, সাসপেন্ড করা হয়। আমার বিভাগেও দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশও পাঠানো হবে সদর দফতরে।

ক্রাইম এক্সপ্রেস বিডিঃ পুলিশের কি কোন ক্ষমতা আছে, নাকি দায়িত্ব?

সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তীঃ পুলিশের নিজস্ব কোনো ধরণের ক্ষমতা নেই। আছে দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালন করতে হয় পুলিশকে আইনের মধ্য থেকেই। আইন লঙ্ঘন নয় বরং যে শপথ নিয়ে পুলিশে আসা, সবাইকে আইনের মধ্য থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হয়। আর আমার গুলশান বিভাগে যদি কেউ অপরাধ করে তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং বর্তমান সরকার মাদকের উপর জিরো টর্লারেঞ্জ ঘোসনা করেছে সেদিকে আমার গুলশান বিভাগের সকল পুলিশ কর্মকর্তরা দ্বায়ীত্ব পালন করবে বলে আমি আশা করি। আর আপনার সাংবাদিকরা আমাদের পাশে থাকলে অপরাধ নির্মূল করা সহযেই সম্ভব হতে পারে। তবে আমি একটা কথা বলতে পারি আমার গুলশান বিভাগে কোন অবৈধ কর্মকান্ড করতে দেওয়া হবে না। আর পাশাপাশি জানাচ্ছি আমার গুলশান বিভাগের সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং সেই সাথে ধণ্যবাদ জানাই “ক্রাইম এক্সপ্রেস বিডিকে”

 

 

সাক্ষাতকারে:

রিপন রুদ্র

সম্পাদক ও প্রকাশক

“ক্রাইম এক্সপ্রেস বিডি”

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..