শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

স্পোর্টস ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০
  • ২৭
শেষ ওভারে খুলনা টাইগার্সের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। হাতে উইকেট ছিল ৩টি। বল হাতে আন্দ্রে রাসেল। ক্রিজে ছিলেন শহীদুল ইসলাম ও শফিউল ইসলাম। দুজনই অপরাজিত ছিলেন শূন্য রানে। জাত বোলার হিসেবে তাদের ব্যাট থেকে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন হয়তো দেখেননি কেউই। কিন্তু রাসেল হয়তো তখনও নিশ্চিত হতে পারেননি। ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল রান দেয়ার পরের বলেই উইকেট। রাসেলের কোন উদযাপন নেই। কিন্তু তৃতীয় বলের মোহাম্মদ আমিরকে করা ডেলিভারিতে এল এক রান। রাসেলের মৃদু উদযাপন। এখন সমীকরনটা ৩ বলে ২৮ রান। জয় নিশ্চিত। শেষ বলে বাউন্ডারি হলেও রাজশাহী জয় পেয়েছে ২১ রানে। এই জয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রথম শিরোপা রাজশাহী রয়্যালসের ঘরে উঠল। আগের বিপিএলের ছয়টি আসরে তিনটি ভিন্ন দল চ্যাম্পিয়ন হলেও নতুন আদলে সাজানো এই আসরের প্রথম শিরোপা উঠল রাজশাহীর ঘরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিপিএল) কিছুদিন আগেই নিশ্চিত করেছিল, আগামী বছর থেকে বঙ্গবন্ধুর নামেই হবে এই আসর।

এর আগে গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য তেমন ভালো ছিল না রাজশাহীর। লিটন দাসের সঙ্গে আফিফ হোসেনের ১৫ বলের উদ্বোধনী জুটিতে আসে মাত্র ১৪ রান। ৮ বলে ১০ রান করে আফিফ শিকার হন মোহাম্মদ আমিরের। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ দৌড়ে এসে যেভাবে ক্যাচটি নিয়েছেন, আসল কৃতিত্বটা দিতে হবে তাকেই।
সঙ্গী হারিয়ে সাবধান হয়ে যান লিটন। খেলছিলেন দেখেশুনে, ঠিক টি-টোয়েন্টির আমেজ ছিল না তার ব্যাটে। শুক্কুরের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে লিটন সাজঘরে ফেরেন ২৮ বলে ২৫ রান করে। এরপর শোয়েব মালিকও সুবিধা করতে পারেননি। ১৩ বল খেলে মাত্র ৯ রানে রবি ফ্রাইলিংককে তুলে মারতে গিয়ে শান্তর ক্যাচ হন। তবে অপরপ্রান্তে নিজের হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন শুক্কুর। দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলা এই ব্যাটসম্যানকে অবশেষে থামান আমির। ৩৫ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় শুক্কুর করেন ৫২ রান।
পরের সময়টায় চালিয়ে খেলে দলের পুঁজি বড় করেছেন আন্দ্রে রাসেল আর মোহাম্মদ নওয়াজ। শহীদুলের করা ১৭তম ওভারে অবশ্য লংঅনে ক্যাচ দিয়েছিলেন রাসেল। ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার তখন মাত্র ৯ রানে। সেই ক্যাচটি দৌড়ে এসে হাতে নিয়েও ফেলে দেন শান্ত। শেষ পর্যন্ত রাসেল ১৬ বলে ৩ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ২৭ রানে। তার চেয়ে বেশি ভয়ংকর ছিলেন মোহাম্মদ নওয়াজ। পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান ২০ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় খেলেন হার না মানা ৪১ রানের ইনিংস। রাজশাহী পায় ১৭০ রানের বড় সংগ্রহ। খুলনার পক্ষে ২টি উইকেট নেন মোহাম্মদ আমির। একটি করে উইকেট রবি ফ্রাইলিংক আর শহীদুল ইসলামের। আমির ও ফ্রাইলিঙ্ক দুজনেই সমান ২০ উইকেট নিয়ে পাশে বসে যান মুস্তাফিজুর রহমানের। তবে শীর্ষেই থেকে যান ফিজ।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় খুলনা। স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ না হতেই মোহা¥মদ ইরফানের বলে ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। এবারের আসরের একমাত্র বাংলাদেশী সেঞ্চুরিয়ানের বিদায়ে চাপে পরে খুলনা। এই চাপ আর একটু বাড়িয়ে দেন আরেক ওপেনার মেহিদী হাসান মিরাজ। মাত্র ২ রানে সাঝঘরে ফেরেন তিনি। মাত্র ১১ রানে দুই উইকেট হারানোর পর শামসুর রহমান ও রাইলি রুশো খেলতে থাকেন দায়িত্ব নিয়ে। তবে ৭৪ রানের পার্টনারশিপ ভেঙে যায় রুশোর (৩৭) বিদায়ে। এর কিছুক্ষণ পর রুশোর সঙ্গী শামসুরও (৫২) ব্যক্তিগত অর্ধশত রান করারর পর কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে ক্যাচ আউট হয়ে দলকে বিপদে ফেলে যান।
দলের যখন বড়ই প্রয়োজন একটি জুটির সে সময় মুশফিককে হতাশ করলেন নাজিবুল্লাহ জাদরান (৪)। এরপর রবি ফাইলিঙ্ককে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন মুশফিক। কিন্তু আন্দ্রে রাসেলের একটি ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে যান মুশফিক। তারপর ফ্রাইলিঙ্ক ক্রিজে থাকলেও সুবিধা করতে পারেননি। ১৫ বলে ১২ রান করে ইরফানের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ইরপান, রাব্বি ও রাসেল পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া রাহী ও নওয়াজ একটি করে উইকেট পেয়েছেন।
ব্যাটে বলে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের সঙ্গে ছিল ম্যাচ উইনিং দ্যুটি ম্যাচও। রাজশাহীকে প্রথমবারের মতো বিপিএলে শিরোপার স্বাদ দেয়া অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেলের হাতেই উঠেছে আসর সেরার পুরস্কার। ১৩ ম্যাচ খেলা ক্যারিবিয়ার অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে ২২৫ রানের পাশাপাশি উইকেটও পেয়েছেন ১৪টি। এই দৌড়ে পেছনে ফেলেছেন খুলনার দুই হার্ড হিটার মুশফিক (১৪ ম্যাচে ৪৯১ রান) ও রুশোকে (১৪ ম্যাচে ৪৯৫ রান)।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..