বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করবে,

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৬৯

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য হবে বড় চ্যালেঞ্জই। ছবি: প্রথম আলো

ক্রিকেটে ২০২০ সালকে বলা যায় টি-টোয়েন্টির বছর। অস্ট্রেলিয়ায় মার্চে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ছেলেদের দল কেমন করে—সম্ভাবনা-আশার কথা জানাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম

নতুন বছরের আশা-সম্ভাবনা নিয়ে বলার আগে ফেলে আসা বছরটা একটু ফিরে দেখি। ২০১৯ সালে টেস্টে ভালো যায়নি, টানা হেরেছে বাংলাদেশ। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের কিছু সাফল্য ছিল। টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে কোনো উন্নতি ঘটেনি। পঞ্জিকা বর্ষের হিসাব না ধরেও যদি বলি, সব মিলিয়ে বছরটা খুব বেশি ভালো কাটাতে পারেনি বাংলাদেশ।

২০২০ সালে থাকছে তিনটি আইসিসি টুর্নামেন্ট। এর মধ্যে দুটি হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। মার্চে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, যেটিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ৮ মার্চ হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল, যে দিন বিশ্ব নারী দিবস। দিনটা ঘটা করে আয়োজনের নানা উদ্যোগ নিচ্ছে এমসিজি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও আইসিসি।

২০২০ সালের অক্টোবরে শুরু হবে ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সালটা ২০২০, টুর্নামেন্ট ২০-২০ ওভারের—বছরের সঙ্গে মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা জাঁকজমক করে তোলার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে আইসিসি।

বলতেই হচ্ছে, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করবে পিছিয়ে থেকে। দলের অতিগুরুত্বপূর্ণ সদস্য সাকিব আল হাসান খেলার সুযোগ পাবে কিনা, এখনই বলার সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে পার হতে হবে বাছাইপর্বের বৈতরণি। বাছাইপর্ব খেলা বাংলাদেশের জন্য এক দিক দিয়ে যেমন অসুবিধা, আবার সুবিধাও আছে। মূল পর্বে পা রাখার আগে কন্ডিশনের সঙ্গে ভালোভাবে ধাতস্থ হতে বেশ কিছু ম্যাচ পাবে বাংলাদেশ, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও যেটা তারা পেয়েছিল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দেওয়া উচিত বাংলাদেশের। আমরা জানি যে অস্ট্রেলিয়ার কোন কোন মাঠে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা আছে। কোন ধরনের খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টে দলে জায়গা পাবে, সেটি ভাবনায় রেখে এগোনো উচিত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে বিপিএল চলছে। আমি মনে করি মাঝের সময়ে আরেকটা ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আয়োজন করা উচিত বিসিবির। যে টুর্নামেন্ট খেলোয়াড়দের আরও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি: প্রথম আলোবিপিএলের সব ম্যাচ আমার দেখা হয়নি। তবে এটা মনে করি বিপিএল বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট নয়। এখানে ৪০ শতাংশ ক্রিকেটার বিদেশি। এ ধরনের টুর্নামেন্টে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়, সেটাও এবার অনেকটাই অনুপস্থিত। অনেকটা বেটে দেওয়ার মতো দল করা হয়েছে। এ কারণেই আরেকটা টুর্নামেন্ট করা উচিত যেখানে ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

স্বল্প-লম্বা মেয়াদি বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা থাকে বিশ্বের প্রতিটি দলের। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করছে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে। ঘরোয়া সূচির সঙ্গে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট জুড়ে দেওয়া কঠিন কিছু নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে বিজ্ঞ লোকেরা কাজ করছেন, তারা নিশ্চয়ই বিষয়টি উপলব্ধি করছেন—প্রথম শ্রেণির ম্যাচ কিংবা ৫০ ওভারের ক্রিকেটের সঙ্গে একটি ২০ ওভারের ম্যাচ আয়োজন করে দেওয়া যায়। গত মার্চে আমরা দেখেছিলাম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আগে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল। এ ধরনের টুর্নামেন্ট শুধু অনুশীলন করতে নয়, এখান থেকে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারও বেরিয়ে আসবে।

টি-টোয়েন্টিতে শারীরিক সামর্থ্যকে একটু বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে গায়ের জোরে বড় বড় ছক্কা মারতে হয়। তবে একটা বিষয় দেখবেন, এই সংস্করণে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যানরা ক্রিকেটীয় শটই বেশি খেলে। যদি ক্রিকেটীয় শটের সঙ্গে পাওয়ারের দারুণ সমন্বয় করতে পারেন, সাফল্যের হার বেড়ে যায়। আমরা ভাবি অস্ট্রেলিয়ান পিচে বোধ হয় একটু বাড়তি বাউন্স থাকে। অনেক ব্যাটিং-বান্ধব হয়। যদি দলে দুর্দান্ত এক-দুজন ‘অ্যাওয়ে স্পিনার’ রাখতে পারি, তবে ওই ধরনের পিচে সেটি হতে পারে ভীষণ কার্যকর। ফিল্ডিং ও রানিং বিটুইন দ্য উইকেটেও হতে হবে অসাধারণ।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ যেটা পারেনি, আমি আশাবাদী বাংলাদেশ ২০২০ সালে সেটি পারবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে এখানে অনেক বিজ্ঞ লোক কাজ করছেন। তবুও বলব, আমাদের প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সঙ্গে আইসিসির টুর্নামেন্টের সম্পর্ক রয়েছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান ভালো রাখতে তাহলে দেশের মাঠে আমরা কেন আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বেশি বেশি ম্যাচ খেলব না?পুরোনো ব্যর্থতা ভুলে এক বুক আশা নিয়ে আমরা পা দিচ্ছি নতুন বছরে। ২০২০ সালে আমরা ঘুরে দাঁড়াব, এই সংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করব, সে সামর্থ্য আমাদের আছে। ভালো খেলোয়াড় আমাদের আছে, খেলাটার প্রতি মানুষের ভালোবাসা আছে, অনেক সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।

আমিনুল ইসলাম: বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে আইসিসিতে কর্মরত

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..