শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

জুয়াড়িদের নাম জানতে চিঠি গেল সিঙ্গাপুর

তদন্ত প্রাতবেদক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ২৫
ক্যাসিনো ডনরা শ’ শ’ কোটি টাকা পাচার করেছেন বিদেশে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। টাকা পাচারের পাশাপাশি বিদেশে ক্যাসিনোতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল বাংলাদেশের অনেক প্রভাবশালীর। ঢাকার ক্যাসিনো সম্রাট ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট থেকে শুরু করে এমপি, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী অনেকের গন্তব্য ছিল সিঙ্গাপুর। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এবং নিজস্ব অনুসন্ধানে এসব ব্যাপারে তথ্য পেয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সিঙ্গাপুরে গেল পাঁচ বছরে যারা ক্যাসিনোতে গিয়ে জুয়া খেলেছেন তাদের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার দুদকের মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) এএনএম আল ফিরোজ এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। সিঙ্গাপুরের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (সিপিআইবি) প্রধান উয়ং হং কুনের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে চলেছে।এর অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে। দুদকের কাছে তথ্য আছে, বাংলাদেশের অনেক লোক অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জনের পর তা পাচার করেছে। সংস্থাটির অনুসন্ধান-তদন্তেও অবৈধ পথে অর্জিত অর্থ সিঙ্গাপুরসহ বেশ কিছু দেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। এভাবে সম্পদ অর্জনকারীদের মধ্যে অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, সিঙ্গাপুরে হুন্ডিসহ অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন।

একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনোয় লগ্নিসহ জুয়া খেলায় এসব অর্থ তারা ব্যবহার করেছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, দুদকের সঠিক অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে সিঙ্গাপুরের ‘মেরিনা-বে’ এবং সে দেশের অন্যান্য স্থানের ক্যাসিনোগুলোয় যারা জুয়া (গ্যাম্বলিং) খেলেছে পাসপোর্ট নম্বরসহ তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা খুবই প্রয়োজন। সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোগুলোতে বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা জুয়া খেলেন, তাদের পাসপোর্ট অবশ্যই জমা দিতে হয়। সে কারণে বাংলাদেশের কতজন নাগরিক তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়ে গত ৫ বছরে ক্যাসিনো-জুয়া খেলায় অংশ নিয়েছেন তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দুদককে সরবরাহ করতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের ৪৮ ধারার বিধান অনুযায়ী দুদক সিঙ্গাপুর থেকে এ তথ্য পেতে কোনো বাধা নেই। দুই দেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (বাংলাদেশের দুদক ও সিঙ্গাপুর দুর্নীতি দমন ব্যুরো) একই লক্ষ্যে কাজ করছে। যৌথভাবে দুর্নীতি নির্মূলে একে অপরকে সহযোগিতার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত ওইসব লোক ও তাদের অবৈধ কার্যক্রম থেকে দুই দেশকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে সিঙ্গাপুর সহায়তা করবে বলে চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..