শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
যুবলীক করেই কোটিপতি!

চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করেই ভাগ্য বদলায় রেজার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯
  • ২০

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানায় হাটকুমরুল ইউনিয়নের চরিয়া শিকার গ্রামের সন্তান মোঃ হেদায়েতুল আলম রেজা।২০০১সালে সলঙ্গা থানা আওয়ামী যুবলীগের সাধারন সম্পাদক হয়ে ভাগ্য খুলে যায় তার । এর পরই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এই নেতা । তার নিজের মালিকানাধীন তেমন কোন অর্থ-সম্পদ ছিল না । দীর্ঘ ৭ বছর যুবলীগের সাধারন সম্পাাদক থাকাকালীন সময়ে এলাকায় ত্রাসের রাজক্ত কায়েম,চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি,জাইগা-জমি দখল, আওয়ামী ও যুবলীক নেতা কর্মীদেও পাত্তা না দেওয়া,চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়ে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাদমূলক কর্মকান্ডের কারণে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল গোলচত্বরসহ আশেপাশের এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠেন রোড কিংখ্যাত যুবলীগ নেতা আলম রেজা । বর্তমানে ২০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি । আলম রেজা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত দম্পদ অর্জনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়া হয়েছে । আলম যুবলীগ করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করায় সলঙ্গাবসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্ঠি হয়েছে ।তার অবৈধভাবে গড়ে তোলা সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার নিকট তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় , যুবলীগ নেতা আলম রেজা দখলবাজি ,চাঁদাবাজ আর অনিয়ম করে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক । টাকা ও ক্ষমতার দাপটে তিনি এখন সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান । হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চরিয়া শিকায় পুকুরঘাটসহ বাংলো বাড়ির মডেলে ৩ বিঘা জমির উপর গড়ে তুলেছেন দিষ্টিনন্দন আলিশান বড়ী । রাজনৈতিক কর্মকান্ড ,বিভিন্ন শালিস ,দরবারে নিজের গড়ে তোলা বাহিনী নিয়ে চলাচল করেন ।তার গড়ে তোলা বাহিনী দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করেন সিরাজগঞ্জ রোডের মৎস্য আড়ৎ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার কাউন্টার ,সিরাজগঞ্জ রোডের অভিজাত রেস্টুডেন্ট ফুড ভিলেজ , হানিফ হাইওয়ে রেস্টুডেন্টর আশে পাশে গড়ে ওঠা দোকানগুলোও বরাদ্দ/নির্মান করে লক্ষ লক্ষ  টাকা হাতিয়ে নেন আলম গংয়ের লোকজন। ওই বাহিনী নিয়েই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বালুমহাল ইজারা নিয়ে এলাকার অসহায় মানুষদের জমি কেটে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করেন । তার এই সব অপকর্ম চাঁদাবাজি হুমকি-ধামকি ও অত্যাচারে হাটকুমরুল ইউনিয়নসহ সিরাজগঞ্জ রোডে বসবাসকারি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পরেছেন । তার ভয়ে কেউ মুক খুলতে সাহস পাই না । শুধুতাই নয় তার অপকর্মের বিরুদ্ধে যদি কেউ মুখ খোলেন তাহলে তাকে প্রশাসন দিয়ে মাদক ,মামলাসহ নানাভাবে হয়রানীয় করে থাকেন এই আলম চেয়ারম্যান । ইতিপূর্বে একব্যক্তি তার কথা না শোনার কারণে তার বাহিনী দিয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে বেদমভাবে পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দেন ।  অনুসদ্ধানে আরও জানা যায় হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদটি নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন চেয়ারম্যান আলম রেজা। তিনি কর্মসৃজন প্রকল্প ,এডিপি ,কাবিখা, টাবিখাসহ বিভিন্ন টাকা আত্বসাৎ  করে চলেছেন । তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদেও বসেন না । ইচ্ছামত পরিষদে যান ইচ্ছামত বেরহয়ে আসেন । আবার অনেক সমায় এক সাপ্তাহেও পরিষদে আসেন না। এ কারণে ইউনিয়নের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ ব্যহত হচ্ছে । নানা অনিয়ম ,দূর্নীতি ও সরকারি জায়গা-জমি দখল ও চাঁদাবজির টাকা দিয়েই ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সমায়ে আলম রেজা সিরাজগঞ্জ রোড এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা ক্রয় করেন । গত ২৮ এপ্রিল হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ধোপাকানন্দি মৌজার চরিয়া শিকার গোলকপুর গ্রামের জাহের আলী মন্ডলের পত্র আব্দুল মান্নানের ১০ শতক জায়গা ১ কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেন আলম রেজা। ৫ মাসের ব্যবধানে ২৩ সেপ্টেম্বর একই মৌজার চড়িয়া শিকার গোলকপুর গ্রামের মোঃ মঞ্জুর আলমের নিকট থেকে ২ শতক জায়গা ৩০ লাক টাকা দিয়ে ক্রয় করেন । দুটি জমির প্রকৃত মূল্য ২ কোটি টাকা এবং রেজিষ্ট্রি ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা । এছাড়া আলম রেজার নামে-বেনামে ও স্ত্রীসহ আত্বীয়   স্বজনদের নামে অনেক সম্পত্তি রয়েছে । আওয়ামীলীকসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য আলম রেজা নিজের ক্রয় করা প্রাইভেট কার নিয়ে চলাচল করেন । যার প্রাইভেট কার নং(ঢাকা মেট্টো গ-৩৪-৪৭০৬)। তার সিরাজগঞ্জ রোডে অবস্থিত মেঘনা ব্যাংক লিমিটেডে কোটি টাকা মূল্যের একটি ডিপিএস রয়েছে। এ বিষয়ে সলঙ্গা থানা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও হাটিকুমরুল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হেদায়েতুল আলম রেজা (০১৭১২২***৯৫) মুঠফোনে একাধিক বার একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..