রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
কে এই অধরা ওরফে রুপা!

গুলশানে “হ্যান্ডস অফ গোল্ডের” থেমে নেই অবৈধ স্পা বাণিজ্য?

রিপন রুদ্র:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৩৫

বর্তমান সরকারের শুদ্ধ অভিযানে বলা হয়েছে কোন অবৈধ ব্যবসা চলবে না। অথচ কিছুদিন আগেও ম্যাসাজ পার্লার ও স্পা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে গুলশান নাভানা টাওয়ারে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার একটি শুদ্ধ অভিযান চালালেও থেমে নেই প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় স্পা ও ম্যাসাজ সেন্টারে আড়ালে অসামাজিক বাণিজ্য। তবে উক্ত শুদ্ধ অভিযানে গুলশানের অনেক অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও তার চিত্র একটু ভিন্নরুপ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুলশান থানা সংলগ্ন ৫৫ নং রোড, হাউজ নং- ১২/বি “হ্যান্ডস অফ গোল্ড” থাই ম্যাসাজ ও স্পার আড়ালের চিত্র এবং বেড়িয়ে আসে নানান অপরাধের তথ্য। তবে ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটটিতে সুন্দরী রমনীদের পসরা সাজিয়ে চলছে স্কর্ট সার্ভিস। পাশাপাশি চলছে রমনীদের দ্বাড়া খদ্দেরদের সাথে ব্ল্যাক মেইল বাণিজ্য। কিন্তু মান সম্মানের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না ভুক্তভোগীরা। প্রতিটি খদ্দের হতে সার্ভিস চার্ট অনুযায়ী ঘন্টা ভিক্তিক ৫০০০-৬০০০ টাকা। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করলেই চোঁখে পরে কাষ্টমার সার্ভিসের নির্ধারিত চার্ট এবং একটি রুমে সুন্দরী সুন্দরী উঠতি বয়সের রমনী।

অনুসন্ধানকালে রিসিভিসনিষ্টে বসে থাকা অধরা ওরফে রুপার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটা নতুন হয়েছে। আর আমি এখানকার কর্মচারী। তার নিকট মালিকের নাম জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমি এটা পরিচালনা করি এবং আমার স্বামীও দেখাশুনা করে থাকেন। মালিকের নাম কি এবং তিনি কি করেন, প্রশ্নের জবাবে অধরা জানান মালিক এখানে থাকে না তিনি দেশের বাইরে থাকেন। সময় হলে তার নাম ও পরিচয় জানতে পারবেন। এই ব্যবসা পরিচালনা করার জণ্য থানার থেকে কোন অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কিনা? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও বিষয়টি তাদেরকে জানানো হয়নি। তবে চেষ্টা করছি তাদের সাথে লিংক রাখার এবং আমার জানামতে তাদের সাথে মালিক কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে। অথচ ম্যাসাজ বা স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একাধিক মানব পাচার দমন আইনে মামলা হলেও কে বা কহারা সেল্টার দিচ্ছে সেটি খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এদিকে এলাকাবাসী বলেন, এধরনের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান চললে সেটি নামে মাত্র আই ওয়াস ছাড়া কিছুই না। এরা ধরা খেলেও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেড়িয়ে এসে আবার সুযোগ সুবিধামত শুরু করেন বিভিন্ন ধরনের অপরাধ।

অণ্যদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আশা এক তরুনী বলেন, ভাই আমি আজ প্রথম এখানে এসেছি। কিন্তু এখানে কি হয় তা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। আমার মলিক পক্ষের সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার পর একটি চাকরির আশায় এখানে আসি। তবে তার নাম জানতে চাইলে তিনি তার পরিচয় দিতে অনিচ্ছুক প্রকাশ করেন।

সম্প্রত্তি, একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে গ্রাম-গঞ্জের সহজ সরল মেয়েদের এভাবে চাকুরী কিংবা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে ম্যাসাজ বা স্পা সেন্টারে। নিয়ে আসা মাত্রই জিম্মি করা হয় ওই সব নিরহ মেয়েদের। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধ্য করা হয় অসামাজিক কাজে ও ইয়াবা সেবনে। এমনকি ধর্ষনের শিকার হতে হয় তাদের। একপর্যায়ে তাদের অীশ্লল ভিডিও ধারন করে মাসের পর মাস আটক করে রাখা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, বিষয়টি আমর জান নেই, তবে ডিসি স্যারের নির্দেশ এধরনের কোন অসামাজিক কিংবা মাদক বাণিজ্য হয়ে থাকে তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি আমি এগুলোকে প্রশ্রয় দেইনা। আর যারা এধরনের ব্যবসা করবে তাদের ছাড় নেই। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..