রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

অবৈধ ডিটিএইচের মাধ্যমে বছরে ৮০০ কোটি টাকা পাচার: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১৮

অবৈধ বিদেশি ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) কোম্পানির মাধ্যমে স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখার সুযোগ দিয়ে দেশ থেকে প্রতিবছর ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশে কয়েক লাখ অবৈধ বিদেশি ডিটিএইচ লাগানো হয়েছে। এগুলো আর চলতে দেয়া হবে না।

বুধবার (৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে টিভি শিল্পী, নাট্যকার ও অনুষ্ঠান নির্মাতাদের সর্বজনীন সংগঠন এফটিপিও’র (ফেডারেশন অব টিভি প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনস) সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে এক ব্রিফে এসব কথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কোনো বিদেশি ডিটিএইচ কোম্পানিকে বাংলাদেশে ডিভাইস বসিয়ে সম্প্রচার করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়নি। সুতরাং বিদেশি যে সব ডিটিএইচ বিভিন্নজন ব্যবহার করছেন বা যাদের মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোটাই অবৈধ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কয়েক লাখ বিদেশি ডিটিএইচ লাগানো হয়েছে। এগুলো বিদেশ থেকে কেনা হয়। বাংলাদেশের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে যায়, সেখান থেকে কেনা হয়। বাংলাদেশে এগুলো যারা ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে ১ বছরের ফি নেয়া হয়। কারণ, কোম্পানি বিদেশি হওয়ায় প্রতিমাসে ফি নেয়া কঠিন। সেসব টাকাও আবার হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। এভাবে দেশ থেকে প্রতিবছর ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা বা এরও বেশি পাচার হচ্ছে।’

‘এটি চলতে দেয়া যায় না। আমরা এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। যারা এসব ডিভাইস ব্যবহার করছেন, তাদের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব সরিয়ে নিতে হবে। এরপর আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালন করবো এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এত দিন বাংলাদেশের টেলিভিশনে যেসব বিদেশি সিরিয়াল চলছিল, সেগুলোর জন্য অনুমাতি নেয়ার কোনো বালাই ছিল না। অনুমতি ছাড়াই বিদেশ থেকে সিলিয়াল এনে ডাবিং করে বিভিন্ন টিভিতে চালানো হচ্ছিল। কিন্তু এটি হওয়া সমীচীন নয়। তাই আমরা ইতোমধ্যেই নির্দেশনা জারি করেছি যে, বিদেশ থেকে আনা যেকোনো সিরিয়াল চালানোর জন্য সরকারের অনুমোদন লাগবে।’

‘একটি বিদেশি সিনেমা আমদানির জন্য অনুমোদন লাগে। সিনেমা তো তিন ঘণ্টা চলে সেখানে সিরিয়াল ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে। এ ছাড়া সিলিয়াল অনেক বেশি মানুষ দেখে, এ জন্য অবশ্যই অনুমোদন লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যেসব সিরিয়াল চলছে সেগুলোর জন্য কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের জন্য আবেদন করছে। এসব সিরিয়াল যেন বন্ধ হয়ে না যায়, সেজন্য প্রাথমিকভাবে এসব সিরিয়ালের অনুমোদন দিচ্ছি। তবে সিরিয়াল যাচাই-বছাইয়ের জন্য একটা প্রিভিউ কমিটি থাকতে হবে। খুব সহসা একটা প্রিভিউ কমিটি করে দেব। এই কমিটির মাধ্যমে এগুলো অনুমোদন দেয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..